মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ধুয়ে দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী (যাকে তিনি 'যুদ্ধমন্ত্রী' হিসেবে অভিহিত করেছেন) পিট হেগসেথের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইরানকে ‘দয়াহীন’ হামলার হুমকি দেওয়ায় আরাগচি হেগসেথকে ‘নৈতিকভাবে দেউলিয়া’ এবং ‘যুদ্ধ আইন সম্পর্কে অজ্ঞ’ বলে তোপ দেগেছেন।

কথার লড়াই এখন খাদের কিনারে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যখন ইরানকে গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন, তখন পাল্টা জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যেন আগুনেই ঘি ঢাললেন। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আরাগচি বলেন, হেগসেথ যখন কাউকে রেহাই না দেয়ার হুমকি দেন, তখন তিনি নিজের শক্তি নয়, বরং নৈতিক দেউলিয়া মনোভাবেরই পরিচয় দেন।

আরাগচি মার্কিন এই মন্ত্রীকে রীতিমতো আন্তর্জাতিক আইনের পাঠ নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আমরা তাকে হেগ কনভেনশন এবং রোম স্ট্যাটিউট ভালোভাবে পড়ে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। অবশ্য তিনি যদি নেতানিয়াহুর মতো যুদ্ধাপরাধী হিসেবে নিজের নাম লেখানোর আকাঙ্ক্ষা করেন, তবে ভিন্ন কথা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুরু করে। আলোচনার টেবিল উল্টে দিয়ে তারা ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করে।

যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ হরমোজগান প্রদেশের মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। সেই নৃশংস আক্রমণে ১৬৫ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল নিষ্পাপ শিশু। এই ভয়াবহ স্মৃতি এখন ইরান-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষতকে আরও গভীর করেছে।

আরাগচি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের মুখে ইরান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। ‘বৈধ আত্মরক্ষার’ অধিকার প্রয়োগ করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি অবস্থান লক্ষ্য করে কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ওয়াশিংটন যখন দয়াহীন হামলার হুমকি দিচ্ছে, তেহরান তখন আন্তর্জাতিক আইনের ঢাল আর পাল্টা হামলার তূণ নিয়ে প্রস্তুত। পিট হেগসেথ বনাম আব্বাস আরাগচির এই দ্বৈরথ ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই যুদ্ধ শুধু রণাঙ্গনেই নয়, কূটনৈতিক টেবিলেও চরম নোংরা রূপ ধারণ করেছে।

তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি