ইসরাইলে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি বর্ষণ করেছে ইরান। মঙ্গলবার ভোরের দিকে চালানো এই হামলায় বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র অধিকৃত আল-কুদসে (জেরুজালেম) জায়নবাদী শাসনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তরের খুব কাছে আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। খবর প্রেস টিভি’র।
ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মঙ্গলবার ভোরে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে এই বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। ইতিমধ্যে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশ দিয়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র গতিতে ছুটে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অধিকৃত আল-কুদসসহ পুরো অঞ্চলজুড়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা প্রকট করে তুলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজার আগেই বেশ কিছু শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এমনকি কিছু ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম স্বীকার করেছে, ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ওই প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, বাকি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সফলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর এই তীব্র আক্রমণ মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা একটি বড় মাপের এবং উস্কানিহীন যুদ্ধের বৈধ পাল্টা জবাব। উল্লেখ্য, ইসলামি বিপ্লবের সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হত্যার মাধ্যমে এই আগ্রাসন শুরু হয়েছিল।
ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলার সময়ই এই প্রাণঘাতী অভিযান শুরু হয়। এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে প্রচুর প্রাণহানি ঘটেছে।
এই ক্রমাগত আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী নিয়মিত বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ ও অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলি অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
হরমুজ সংকট: ন্যাটো মিত্রদের ‘অকৃতজ্ঞ’ বললেন ট্রাম্প
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি কী নিহত?