হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পেয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশেরও বেশি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সোমবার, ট্রাম্প জানান, অনেক দেশ আমাকে বলেছে তারা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসছে। তবে তিনি জনসমক্ষে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কিছু দেশ বেশ উৎসাহী, আবার অনেক দেশ যাদের আমরা বছরের পর বছর ভয়াবহ বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেছি, তারা তেমন উৎসাহ দেখাচ্ছে না। উৎসাহের এই মাত্রাটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দেয়া বা কোনো অভিযানে অংশ নেয়া অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক’ হতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় নেতারা এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে নারাজ, যা তাদের ইরানের সাথে এক ব্যাপক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবে। কারণ, তারা ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি এই আক্রমণকে শুরু থেকেই ‘অবৈধ’ এবং জাতিসংঘের অনুমোদনহীন হিসেবে বিবেচনা করছেন।
জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে এই অভিযানে যুক্ত হতে অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের ওপর বিশেষভাবে ‘বিস্ময়’ ও ‘অসন্তোষ’ জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, আমি তাকে বলেছি, সিদ্ধান্তের জন্য আপনার টিমের সাথে বসার দরকার নেই। আপনি প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিন, আমাদের সহযোগিতার জন্য মাইন-সুইপার পাঠাবেন কি না।
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু ন্যাটোর সিংহভাগ অর্থায়ন করে এবং ইউক্রেনকেও রাশিয়ার হাত থেকে বাঁচাতে বিপুল অর্থ দিচ্ছে, তাই ব্রাসেলস (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) ওয়াশিংটনের কাছে ঋণী। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, পুতিন আমাদের ভয় পান, কিন্তু ইউরোপকে তিনি পাত্তাই দেন না। সত্যি বলতে আমাদের কাউকে প্রয়োজন নেই। আমি শুধু দেখতে চাইছিলাম সংকটের সময় মিত্ররা পাশে থাকে কি না।

‘এটি তাদের এলাকা’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পর ইরান বর্তমানে এই সামুদ্রিক পথটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে তেলের পাম্পগুলোতে। ট্রাম্পের যুক্তি, আমি দেশগুলোকে তাদের নিজেদের এলাকা রক্ষা করতে বলছি। তাদের উচিত সাহায্য করা। আমরা তো সেখানে না থাকলেও পারি, কারণ আমাদের প্রচুর তেল আছে।
গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে তা তিনি জানতেন, কিন্তু কেন তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি। অন্যদিকে, উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর ইরানের পাল্টা হামলার তীব্রতা ট্রাম্পের ধারণার বাইরে ছিল। তিনি স্বীকার করেন, কাতার, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলা ছিল অভাবনীয়। আমরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছি।

এখন পর্যন্ত কুয়েতে সর্বোচ্চ প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ৬ জন মার্কিন সৈন্য ও ৪ জন কুয়েতি সৈন্যসহ মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে এক ইরানি শিশুও রয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানিরা চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কথা বলতে চায়, যদিও ইরান প্রকাশ্যে কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে এবং পূর্বশর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে না বসার ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
