ইরানে মার্কিন ড্রোন চুরমার, গোয়েন্দা জালে ৫৪ গুপ্তচর

ইরানে অনুপ্রবেশকারী মার্কিন-ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত করা এবং দেশজুড়ে বিস্তৃত এক গুপ্তচর চক্রকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে তেহরান। মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত কেশম অঞ্চলে একটি 'লুকাস' ড্রোন ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে ইরান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রদর্শন করলো।

ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেশম অঞ্চলের আকাশসীমায় একটি 'লুকাস' ড্রোন শনাক্ত করা হয়। সেনাবাহিনীর সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ড্রোনটি প্রতিহত ও ধ্বংস করে।

ইরান একে 'মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসী শত্রু'র ড্রোন হিসেবে অভিহিত করেছে। এই নিয়ে দেশটির যৌথ বিমান প্রতিরক্ষা সদর দফতর এ পর্যন্ত মোট ১৪৭টি শত্রু ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করল।

গুপ্তচর ও নাশকতামূলক চক্রের পর্দাফাঁস: একই দিনে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দেশের চারটি প্রদেশ থেকে ৫৪ জন 'মার্কিন-জায়নবাদী ভাড়াটে গুপ্তচর'কে গ্রেপ্তার করেছে। এই গ্রেপ্তার অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

ভুল তথ্য দিয়ে বেসামরিক এলাকায় হামলা: গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪১ জন তেহরান থেকে স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা কেন্দ্র ও চেকপোস্টের অবস্থান ইসরায়েলি মদদপুষ্ট সংবাদ মাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল'-এর কাছে পাঠাচ্ছিল। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, তারা সাধারণ মানুষের আবাসিক ভবনগুলোকে সামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করে পাঠাত, যাতে শত্রু দেশগুলো সেসব স্থানে বোমা হামলা চালায়।

অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার: এই চক্রের কাছ থেকে ৩টি বিশেষ যোগাযোগ যন্ত্র, একটি পিস্তল এবং একটি স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদী সেল নির্মূল: দক্ষিণ ইরানের ফাস প্রদেশে দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পাঁচ সদস্যকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছে হাতে তৈরি বোমা ও দেশীয় অস্ত্র পাওয়া গেছে। এই ব্যক্তিরা শত্রু দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা হামলার পর সেসব স্থানের ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে বিদেশে পাচার করত।

প্রাদেশিক অভিযান: উত্তর ইরানের গিলান এবং পশ্চিমের কেরমানশাহ প্রদেশ থেকেও আরও আটজন ভাড়াটে এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের সাথে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।ৱ

ইরানের গোয়েন্দা বিভাগের মতে, এই বিশাল গুপ্তচর নেটওয়ার্কটি সরাসরি ইসরাইল ও আমেরিকার হয়ে ইরানের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের কাজ করছিল। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশটিতে একটি বড় ধরণের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান।

তথ্যসূত্র: ফারস নিউজ ও প্রেস টিভি