বিশ্বের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী মাইনমুক্ত করে দিচ্ছে: ট্রাম্প

ইসলামাবাদের ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার আবহে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক বিস্ফোরক পোস্টে দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী মাইনমুক্ত করার কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের মাইন স্থাপনকারী সব জাহাজ সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে বড় বিজয় আর্জন করেছে, আর ইরান শুধুই তাদের সব কিছু হারিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক দীর্ঘ পোস্টে দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, ইরান যে ২৮টি মাইন স্থাপনকারী নৌকার সাহায্যে এই জলপথটি রুদ্ধ করেছিল, সেগুলোর সবকটিকেই মার্কিন বাহিনী ধ্বংস করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, চলমান এই সংঘাতের ফলে ইরান চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করে বলেন, যারা বলছে ইরান এই যুদ্ধে জিতছে, তারা ভুল। ট্রাম্পের ভাষায়, সবাই জানে ইরান বড় ধরনের হারের মুখোমুখি হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন যে, মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার ব্যবস্থা বর্তমানে অস্তিত্বহীন। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী মাইনমুক্ত করার এই উদ্যোগকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতি আমেরিকার একটি ‘উপকার’ হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন। তিনি চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো দেশগুলোর নাম উল্লেখ করে বলেন, এই দেশগুলোর নিজেদের কাজটি করার মতো ‘সাহস বা ‘ইচ্ছা’ নেই। তাঁর মতে, আমেরিকা ঝুঁকি নিয়ে পুরো বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের মাইন এবং ড্রোন হামলার আতঙ্কে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যদিও এই পথ দিয়ে প্রবাহিত তেলের অধিকাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায় না, তবুও বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার কারণে আমেরিকায় পেট্রোলের দাম আকাশচুম্বী। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে অপসারিত হয়েছে, যা তাঁর ভাষায় যুদ্ধের সফলতাকে নিশ্চিত করছে।

ট্রাম্পের এই কঠোর ও আক্রমণাত্মক ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে শান্তি আলোচনায় বসছেন। একদিকে কূটনৈতিক টেবিলে সমঝোতার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের এই ‘সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার’ দাবি আলোচনার পরিবেশে নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স