ঈদের সময়ে সংক্রমণ বিস্ফোরণের আশঙ্কা, যদি...

বেশি সংক্রমিত এলাকাগুলোতে মৃত্যু বাড়ছে। সেই হিসেবে গেলো এক সপ্তাহে করোনায় মোট মৃত্যুর ৪৭ শতাংশই রাজশাহী আর খুলনা বিভাগে। 

পয়লা জুলাই থেকে ঘোষিত লকডাউন কার্যকর না হলে ঈদের আগে পশুর হাট আর মানুষের বাড়ি ফেরা মিলিয়ে সংক্রমনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।  

একদিন আগেই, করোনায় ১১৯ জনের সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখার পর, এবার নতুন রোগী শনাক্তের নতুন রেকর্ড দেখলো বাংলাদেশ। 

গেল ২৪ ঘন্টায় আট হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুও আছে শতকের ঘরেই। ১০৪ জন। শেষ চারদিনের মধ্যে তিনদিনই শতকের ঘরে থেকেছে মৃত্যু। 

এখন শনাক্ত রোগী বিবেচনায় মৃত্যু হার ১.৬ শতাংশ। যা গেলো বছরের ৭ মে’র পর সবচেয়ে বেশী। আর পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার প্রায় ২৪ শতাংশ, যেটিও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুন: খুলনা করোনা হাসপাতালে তীব্র হচ্ছে অক্সিজেন সংকট

পরিসংখ্যান বলছে, উচ্চ সংক্রমিত বিভাগ খুলনায় সংক্রমনের সাথে মৃত্যু হারও এগিয়ে আছে। ২৭ জুন পর্যন্ত গেলো এক সপ্তাহে খুলনায় করোনায় মারা গেছে ১৭৮ জন।

আর, ঢাকায় ১৩৫ এবং রাজশাহী বিভাগে ১১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  মোট মৃত্যুর ৪৭ শতাংশই খুলনা আর রাজশাহী বিভাগে। 

আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশকাত হোসেন এবং স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মুখপাত্র রোবেদ আমিন জানাচ্ছেন, বেশি সংক্রমিত এলাকায় মৃত্যু বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। 

সেই সঙ্গে আক্রান্ত সব রোগীকে চিকিৎসা সেবার মধ্যে আনতে না পারাও করোনায় মৃত্যু সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ বলেও মনে করেন তারা। 

এই দুই বিশেষজ্ঞ সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এবারের লকডাউন কার্যকর না হলে, ঈদের সময়ে মানুষের চলাফেরা ও পশুর হাটের কেনাকাটায় সংক্রমণের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। 

করোনার অতিসংক্রামক ধরন ছড়িয়ে পরছে উল্লেখ করে তারা জানান, এই সময়ে লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া, এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প পথ খোলা নেই বলেও মত প্রকাশ করেন এই দুই বিশেষজ্ঞ। 


একাত্তর/এসজে