দেশে আবারও চোখ রাঙাচ্ছে করোনা ভাইরাস। পাঁচ বছর আগে এই ভাইরাসের কারণেই থমকে গিয়েছিলো পৃথিবী। কেড়ে নিয়েছে লাখো প্রাণ, আক্রান্ত করেছে কোটি কোটি মানুষকে। শাটডাউন আর ঘরবন্দি থাকতে হয়েছে দিনের পর দিন। কঠিন এবং একই সঙ্গে মর্মান্তিক এক সময়ের সাক্ষী হয়েছে পৃথিবীর মানুষ।
সেই করোনা ভাইরাসই রূপ বদলে আবারও ব্যাপক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রতিবেশী ভারতসহ বহু দেশেই বাড়তে শুরু করেছে কোভিড-১৯ হিসেবে নাম পাওয়া এই ভাইরাসের সংক্রমণ। বাংলাদেশেও হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করেছে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ। এর বিস্তার ঠেকাতে নড়েচড়ে বসেছে সরকারও।
দেশেও করোনা ভাইরাসের সেই নতুন একটি উপধরনে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। এটি ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহারসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে করোনা পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে আপাতত এ পরীক্ষা হবে সীমিত পরিসরে।
বুধবার, এক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক হালিমুর রশীদ অধ্যাপক হালিমুর রশীদ বলেন, প্রাথমিকভাবে যেসব মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে আরটি-পিসিআর ল্যাব রয়েছে, সেখানেই এই পরীক্ষা শুরু হবে।
অধ্যাপক হালিমুর রশীদ বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা আবার চালু করা যাবে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোয় পরীক্ষা চালু হবে। যেসব হাসপাতালে আরটি-পিসিআর ল্যাব রয়েছে, শুধু সেখানেই শুরুতে এই সুবিধা মিলবে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন একজন। কিন্তু গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে এতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫-এ। গবেষকেরা করোনার নতুন একটি ধরন শনাক্তের কথা বলছেন। এর নাম এক্সএফজি।
এর পাশাপাশি এক্সএফসি ধরনটিও পাওয়া গেছে। দুটিই করোনার শক্তিশালী ধরন ওমিক্রনের জেএন-১ ভ্যারিয়েন্টের উপধরন। গত বৃহস্পতিবার দেশে করোনায় একজনের মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক না হলেও দেশে এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে করোনার সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।
করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১ নির্দেশনা