গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে সরকার সংলাপে বসতে রাজি আছে। কিন্তু কার সঙ্গে সংলাপ হবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
শর্তহীন সংলাপে বসতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুরোধ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের কোনো বন্ধুদেশ যদি পরামর্শ দেয়, তবে আমরা সেটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করি। আমরা সেটি পর্যালোচনা করি। যদি আমরা মনে করি সেটি দেশের জন্য মঙ্গলজনক, সেটি আমরা বিবেচনা করি।
তিনি বলেন, পরামর্শ এলেই হবে না, সেটি দেশের জন্য বাস্তবসম্মত কিনা সেটিও দেখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যদি ট্রাম্প সাহেব এবং বাইডেন সাহেব সংলাপ করেন, তাহলে আমরাও রাজি। সংলাপ করতে আপত্তি নেই। তবে কার সঙ্গে সংলাপ করবো সে সম্পর্কে আমাদের প্রশ্ন আছে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে বিনা শর্তে সংলাপ চায় যুক্তরাষ্ট্র। আর সে লক্ষ্যে তিনটি রাজনৈতিক দলকে চিঠি দিয়েছেন দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ট লু।
ওই চিঠি সোমবার জাতীয় পার্টির কাছে পৌঁছে দেন ঢাকায় মার্কিন দূত পিটার হাস। বিএনপিকেও সেই চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার জাতীয় পার্টিকে ওই চিঠি পৌঁছে দেন বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। এরপরে মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলে,আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরতে তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত হাস।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ উপায়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় এবং সহিংসতা পরিহার ও সংযমী হতে সব পক্ষকে আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দলের উপরে আরেকটিকে আনুকূল্য দেখায় না। যুক্তরাষ্ট্র কোনো শর্ত ছাড়া সংলাপে বসতে সবপক্ষকে আহ্বান জানায়।
এদিকে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলোচনার বিষয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে দেখছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ভারত পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ এবং তারা অত্যন্ত পরিপক্ব, সরকার অত্যন্ত পরিপক্ব। তারা যেগুলো বলে সেগুলোতে আমাদের দ্বিমত নেই।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওনাকে বলেন, ওনার দেশ একজন বিচারে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে বিদেশে পাঠায় কি না।