জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোল বেজে ওঠার মধ্যে সংলাপের দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমিরেটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
জাতীয় সংলাপের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণ মূলক ভোট হলে গণফোরাম দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কামাল হোসেন।
অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিরি মধ্যে বিনাশর্তে সংলাপ চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এ লক্ষ্যে তিনটি রাজনৈতিক দলকে চিঠি দিয়েছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। তার চিঠি রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানোর পরদিনই সংবাদ সম্মেলনে সংলাপের দাবি নিয়ে আসলেন কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, আমি জাতীয় সংলাপের মধ্যদিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। সেটা হলে (ভোটের অংশ নেয়ার বিষয়ে) আমরা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।
‘আমরা চাইছি, দেশের জাতীয় ঐক্যকে আরও সুসংহত করা, সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটা ঐকমত্যে আসা এবং তারপরে সবাইকে নিয়ে যেন নির্বাচনে যাওয়ার কথা চিন্তা করা উচিত,’ বলেন তিনি।
২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন কামাল হোসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে সংলাপ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
ওই সংলাপের সময়ও সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানায় কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট। তাদের দাবি আমলে না নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা দলগুলো।
ওই নির্বাচনে বিএনপি সাতটি এবং গণফোরাম দুটি আসন পায়। ব্যাপক ভরাডুবির পর ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে বেরিয়ে যায় বিএনপি। পরে গণফোরামের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সুলতান মনসুরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিনের সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল দাবি করেন, রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সব রাজনৈতিক দল একসাথে হয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ না নিলে দেশের বর্তমান ‘অস্থিতিশীল’ পরিবেশ দূর করা সম্ভব নয়।
এ সময় তিনি দেশের অবস্থাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। কামাল বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে এই অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব। ঐক্যের গুরুত্ব আমরা সবসময়ই দিয়ে থাকি।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল বুধবার
সুষ্ঠু ভোটের জন্য সংলাপের উদ্যোগ নিন, সরকারকে ড. কামাল