পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্ব নিম্ন তাপমাত্রা আট দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার সকালে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা সিরাজগঞ্জে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছয় দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। এদিকে শুধু তেঁতুলিয়াই নয়, শীতে কাঁপছে গোটা দেশ। তবে শীতে কাহিল উত্তরবঙ্গ।
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে শীতের তাণ্ডব কমছেই না হাড় কাঁপানো শীতে নাজেহাল হয়ে পড়েছে জেলার মানুষ। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
বুধবার রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অফিস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিনও বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ।
এ কারনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এনিয়ে জেলায় পাঁচ দিন ধরে বন্ধ আছে পাঠদান।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৯টি উপজেলায় ৬৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে আরও কম্বলে জন্য ঢাকায় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
নওগাঁ
ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তর থেকে বয়ে আসা হিম বাতাস আর কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নওগাঁর মানুষের জনজীবন। প্রায় গত তিন সপ্তাহ থেকে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু এ অঞ্চলের জনজীবন। তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করছে ৮ থেকে ১১ ডিগ্রির ঘরে।
বুধবার নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া অফিস সকাল ৯টায় জেলায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছেন। মঙ্গলবার জেলায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। ভোর থেকেই কুয়াশায় ঢাকা পড়ে আছে পথঘাট। সকাল ১০টা পর্যন্ত কুয়াশার কারণে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।
তবে মঙ্গলভার সকাল থেকেই সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তাপ ছড়াতে পারেনি সূর্য। এ কারণে কনকন শীতে শীতে জবুথবু থাকতে হচ্ছে। সবচেয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক জানান, এ রকম তাপমাত্রা জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে ঘন কুয়াশা আর শীতের তীব্রতা না কমলেও বেড়েছে তাপমাত্রা। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে দুপুর অবধি দেখা মিলছে না সূর্যের। সেই সঙ্গে কনকনে ঠান্ডা বাতাসের কারনে শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি।
বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা রেকর্ড কার হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা মঙ্গলবারের চেয়ে তিন ডিগ্রি বেশি। গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা কিছুটা কম ছিলো।
এদিকে কুয়াশার সঙ্গে কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে চা বাগানসহ পাহাড় ও হাওর এলাকার কম আয়ের মানুষের মধ্যে।
গাইবান্ধা
টানা দুই দিন পর গাইবান্ধায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর এসেছে। এতে খুলেছে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৯টার বদলে ১০ বসছে ক্লাস। এই ঠান্ডায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একেবারে কম। কয়েকদিন পর সূর্যের দেখা মিললেও নেই তাতে উত্তাপ। ফলে কমেনি শীতের তীব্রতা।
গাইবান্ধায় আবহাওয়া অফিস না থাকায় তাপমাত্রা পরিমাপ করে জেলা কৃষি অফিস। কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যানুযায়ী বুধবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা মঙ্গলবারের চেয়ে তিন দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। যা মঙ্গলবারের চেয়ে চার দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
দিনাজপুর
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে চলিত সপ্তাহে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বাড়ছে শীতের প্রকোপ। আর সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় হিমেল বাতাস, তার সঙ্গে যোগ দেয় ঘন কুয়াশা। এতে করে দিনের বেলায়ও যানবাহনকে লাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে।
বুধবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত দিকে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
নেত্রকোনা
শীতের তীব্রতা, ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডা বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে নেত্রকোণায় জনজীবন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না মানুষ। হঠাৎ করে শীত বেড়ে যাওয়ায় স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, সাধারণ শ্রমজীবী ও অফিসগামী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
বুধবার নেত্রকোণায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে নেত্রকোণা কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।
কলাপাড়া
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বুধবার সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসেছে শীত। গত এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে প্রচন্ড শীতে গোটা সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বুধবার সকাল থেকে ঘন কালো মেঘে ঢাকা আকাশে সকাল ৯ টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। এ বৃষ্টি শুরুর পর শীত আরও জেঁকে বসে। এতে বিপাকে পড়ে মাঠে ও বাইরে কাজ করা শ্রমজীবীরা।
আবহাওয়া অফিস জানায়, কলাপাড়ায় গত কয়েকদিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক তিন ডিগ্রি থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী বুধবার বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈতপ্রবাহ। আকাশে রয়েছে হালকা মেঘ ও কুয়াশা। বুধবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ জেলার উপর দিয়ে শৈতপ্রবাহ বয়ে যাওয়া ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কনকনে শীত জনজীবন যবুথবু হয়ে যাচ্ছে এবং জেলার দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল মানুষ কষ্টে আছে।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু আছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের কর্তব্যরত পর্যবেক্ষক জাহিদুল হক জানান, গত ১২ জানুয়ারি থেকে চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে মৃদু ও মাঝারি শৈতপ্রাবহ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে জেলার শীতার্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৮হাজার ৯০০ কম্বল ও দুই হাজার প্যাকেট চাল, ডাল চিনি, তেল বিতরণের জন্য জেলার ৩৮ ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ৩০ হাজর কম্বল ও ১০ হাজর ব্যাগ শুকনা খাবারের চাহিদা চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে।
এছড়া বৈরি আবহাওয়ার কারণে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তবিবুর রহমান ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান জানান,তাপমাত্রা কম থাকায় জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু আছে।