চলবে সব গণপরিবহন, খুলবে পর্যটনকেন্দ্র

দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৯ আগস্ট থেকে দেশের সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সকল প্রকার গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। 

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষারিত প্রজ্ঞাপনে একথা জানানো হয়। 

এর আগে সরকার জানিয়েছিল, ১০ তারিখে কঠোর বিধিনিষেধ শেষ হয়ে যাবার পর গণপরিবহন সবগুলো আসনে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে মোট পরিবহনের অর্ধেক চলাচলের নির্দেশনা দেয়া হয়। 

আরও পড়ুন: 'টিকা পেতে ধৈর্য ধরতে হবে'

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র আসন সংখ্যার ৫০ ভাগ ব্যবহার করে চালু করতে পারবে। 

একইসাথে সবাইকে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনাও দেয়া হয় প্রজ্ঞাপনে। 

পাশাপাশি কোন প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয় প্রজ্ঞাপনে। 

ঘোষিত এই প্রজ্ঞাপন অনুসারে কোরবানির ঈদের কারণে এক সপ্তাহ বিরতী দিয়ে পহেলা জুলাই থেকে থেকে শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধ আগামী ১৯ তারিখ থেকে সম্পূর্ণভাবে উঠে গেল। তবে দেশের প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরির বয়স বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে

সরকারে এই ঘোষণা করোনাভাইরাসের চলমান ঊর্ধ সংক্রমণ ও অধিক মৃত্যু পরিস্থিতির মধ্যে আরও উদ্বেগজনক অবস্থা তৈরি করতে পারে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, ধীরে ধীরে হলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার যেভাবে কমছে তা আপাতত ইতিবাচক লক্ষণ। 

দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭৪২ জন। একইসাথে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৩ হাজার ৩৯৮। দেশে বর্তমানে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার ২৩ দশমিক ৪৫। 


একাত্তর/আরএইচ