প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন জুনে হওয়ার যে কথা বলছেন তখন বর্ষাকাল। বর্ষার ওই সময়ে নির্বাচন হয় না।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) ইসি ভবনে নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন আরএফইডি টকে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সিইসি।
এসময় তিনি বলেন, যদি ডিসেম্বরে নির্বাচন হয় তবে অক্টোবরের মধ্যে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই আমাদের আইনকানুন বিধি-বিধান দ্রুত ঠিক করে কাজ সমাধান করতে হবে যাতে ডিসেম্বরে নির্বাচন হলেও আমরা প্রস্তুত থাকতে পারি। এর মাঝে আইন-কানুন পরিবর্তন হলে আমাদের জন্য কাজ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, আমি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ সাশ্রয় করে কাজ করতে চাই। নির্বাচনের আইন কানুন বিধি-বিধান চূড়ান্ত অবস্থায় এখনো আসেনি। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের পুরো প্রতিবেদনও আমরা পাইনি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনেও জটিলতার কারণে আমরা ভোটার তালিকা হালনাগাদের পাশাপাশি এই কাজগুলো করতে পারছি না।
‘সুপারিশ অনেক দেয়া যায়, কিন্তু যারা বাস্তবায়ন করবেন তারা বুঝবেন কি কি বাধা আছে।’
সিইসি বলেন, সীমানা নির্ধারণে সংস্কার কমিশনের স্বাধীন প্রতিষ্ঠান তৈরি করার সুপারিশের কোনো মানে হয় না। ইসি নিজেই স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। ইসির অধীনেই এই দায়িত্ব থাকা উচিত। ভোটার তালিকা হালনাগাদের দায়িত্বও অন্য কাউকে দেয়া সংবিধান পরিপন্থী। এই সুপারিশ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য না।
নির্বাচন কমিশনাররা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হলে তাদের শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ কমিশনারদের স্বাধীনতা খর্ব হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি অপব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এছাড়া সংস্কার কমিটি নির্বাচনে ইসির বাজেট নির্ধারণের যে সুপারিশ করেছে তাতেও ইসির স্বাধীনতা খর্ব হবে।
তিনি বলেন, ইসি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, বদলির দায়িত্ব ইসির কাছে আসলে ইসির মূল কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। কমিশনের এই সুপারিশও গ্রহণযোগ্য না। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ইসির জবাবদিহি করার ক্ষমতা সংসদীয় কমিটির কাছে গেলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে যারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আছেন তারাও মনে করেন এনআইডি ইসির অধীনে থাকা উচিত অথচ আগে টেনে-হিঁচড়ে এনআইডি স্বরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।
‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়নি, তাই শুধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী না, সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে জনগণেরও সহযোগিতা চায় কমিশন।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের মতো আমরাও তিন মাসে নির্বাচন করতে পারতাম যদি আইন-কানুন, বিধি-বিধানে সমস্যা না থাকতো, যোগ করেন সিইসি।