স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়মতান্ত্রিকতা, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাব দূর করতে চিকিৎসকদের পদায়ন ও বদলিতে অটোমেশন (স্বয়ংক্রিয়) ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। প্রথম ধাপে উপজেলা পর্যায়ের ৯৫ জন চিকিৎসককে এই অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে চিকিৎসকদের অনলাইন বদলি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে এসব কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে প্রায় ৪০ হাজার চিকিৎসক রয়েছেন। বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা আনতে উপজেলা পর্যায় থেকে আমরা অনলাইন অটোমেশন ব্যবস্থা শুরু করেছি। প্রথম ধাপে ৯৫ জন চিকিৎসককে নিয়ম মেনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদায়ন করা হয়েছে। কোনো চিকিৎসককে নিজ উপজেলায় পদায়ন না দেওয়া হলেও পাশের উপজেলায় সুযোগ রাখা হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা তদবিরের সুযোগ থাকবে না।
ডেঙ্গুর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের কোনো অবহেলা নেই এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গুর ভ্যাকসিনের বিষয়ে তিনি বলেন, ভ্যাকসিনটি এখনো শতভাগ নিরাপদ প্রমাণিত না হওয়ায় চাইলেই প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না; তবে এটি আনার বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া হামের টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শতভাগ টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তুলনায় বিএনপি সরকারের মেয়াদে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেক ভালো রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তিনি তথ্যের উল্লেখ করে বলেন, গত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে অন্তত ১১৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেখানে সরকারের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩০৭ জন। আমরা এই মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কাজ করছি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, অনলাইনে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব চিকিৎসকদের জন্য চালু করা হবে। এর ফলে চিকিৎসকদের বদলি কেন্দ্রিক তদবির প্রথা ও অবৈধ লেনদেনের সংস্কৃতি অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাবে।