আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় গ্রিড পুনরুদ্ধারের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিবিপি)।
সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে দেশের সব বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিড লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্র শতভাগ চালু রয়েছে। তবে জাতীয় গ্রিড পুনরুদ্ধার হলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যায়ক্রমে চালু করা হচ্ছে। ফলে কেন্দ্রে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এলাকাভিত্তিক বিক্ষিপ্ত লোডশেডিং দ্রুত কমে আসবে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটের দিকে দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার একাংশে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এতে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ অংশে মুহূর্তেই বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন এবং বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলসহ একাধিক অঞ্চলের লাখ লাখ গ্রাহক আকস্মিক এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে পড়েন। একই সময়ে চট্টগ্রামেরও বড় একটি অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পেয়েই তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্গঠনে মাঠে নামেন বিদ্যুৎ প্রকৌশলীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ তত্ত্বাবধানে এবং ন্যাশনাল লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সরাসরি নিয়ন্ত্রণে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু করেন। টানা পৌনে দুই ঘণ্টার নিবিড় প্রচেষ্টায় দুপুর আড়াইটায় সিস্টেম পুনরুদ্ধারের কাজ সফলভাবে শেষ হয়। তবে ঠিক কী ধরনের কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্রিডে এমন আকস্মিক বিভ্রাট ঘটেছে, সে সম্পর্কে পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি এক বার্তায় জানায়, সাময়িক এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক ও সচল ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত এই প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের ফলে সাধারণ মানুষের সাময়িক অসুবিধা এবং ভোগান্তির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে পিজিবিপি কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন শতভাগে পৌঁছালে দ্রুতই সারাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে জানানো হয়েছে।