বৈষম্যবিরোধী আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে নাগরিকদের প্রশ্ন

দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হবার জন্য বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও আমলাতন্ত্রের দায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত বৈষম্যবিরোধী আইন নিয়ে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আইনটিতে আসেনি সব জনগোষ্ঠীর কথা। 

দলিত, নৃগোষ্ঠীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে সংবিধানে। সে আলোকেই তৈরি হচ্ছে বৈষম্যবিরোধী আইন।

এতে বলা হচ্ছে, কোন ব্যক্তিকে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা, পেশা ও অস্পৃশ্যতার অজুহাতে হেয় করা যাবে না। সরকারী–বেসরকারী অফিসে সবাইকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। 

মা-বাবার পরিচয় ছাড়াও স্কুলে ভর্তি নিতে হবে। আঘাত দেয়া যাবে না ধর্মীয় অনুভূতিতে। প্রতিবন্ধী বা তৃতীয় লিঙ্গ হওয়ার কারণে কাউকে পরিবার ছাড়া করা যাবে না। 

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কোনো বৈধ পেশা বা চাকরি গ্রহণ বা বৈধ ব্যবসা পরিচালনা থেকে করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কোনো উৎসবে বাধা দেয়া যাবে না। 

রোববার, এই আইনের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আলোচনায় বক্তারা জানান, সমাজে যে বৈষম্য রয়েছে এ আইন তার স্বীকৃতি দিলো।

আরও পড়ুন: পেনক্যামেরায় ভিডিও ধারণের সময় বিদ্যালয়ের প্রহরী আটক

তবে এ আইনে সবগোষ্ঠীকে আমলে নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন কেউ কেউ। জানান, ভুক্তভোগী প্রতিকারের জন্য কোথায় যাবে সে বিষয়টিও অষ্পষ্ট।

এ সময় আইন বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিষ্ক্রিয়তা ও আমলাতন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। এ অবস্থায় আইনটি আবারো যাচাই-বাছাইয়ের পরামর্শ নাগরিক প্ল্যাটফর্মের। 

এ সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরিতে বৈষম্যসহ বেশকিছু বিষয় আমলে নেবারও পরামর্শ আসে। 


একাত্তর/আরবিএস