গাঁজা দিয়ে তৈরি খাবার পৌঁছে দেয়া হতো ক্রেতার বাড়িতে

বিপুল পরিমাণ গাঁজা, গাঁজার তৈরি কেক, চকোলেট ও মিল্কশেকসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। এদের মধ্যে একজন তরুণী রয়েছেন।

আসামিদের সবাই বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অনলাইনে গ্রুপ খুলে বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা গাঁজা দিয়ে তৈরি এসব পণ্য বিক্রি করতেন। ক্রেতারও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া।

বিভিন্ন রঙ আর ডিজাইনের চকলেট, কেক বা মিল্কসেক দেখে যে কারোই মনে হতে পারে এসব মুখরোচক খাবার। কিন্তু এসব খাবার তৈরি হয়েছে গাঁজার নির্যাস থেকে।

নেশার উপকরণ হিসেবেই এসব গ্রহণ করেন মাদকাসক্তরা। দামও আকাশচুম্বী। একেকটি কেক আকার ভেদে ছয় থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হতো।

গাঁজার নির্যাস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাদ্য-পণ্যের কারবারে জড়িত এমন তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। এদের মধ্যে একজন তরুণীও রয়েছেন।

রোববার বিকেল চারটার দিকে প্রথমে গুলশানের ৬ নম্বর রোড থেকে মোটরসাইকেলযোগে এক ডেলিভারিম্যানকে আটক করা হয়। পরে আটক এই যুবকের দেয়া দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা থেকে চক্রের অন্য এক তরুণী ও এক যুবককে আটক করা হয়।

সোমবার (৩০ মে) দুপুরে, গুলশান থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, গোপন খবরে পুলিশের বিশেষ দল ইন্সপেক্টর শেখ শাহানুর রহমানের নেতৃত্বে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় একটি বাইকের পেছনে বসা যুবককে আটক করা হয়।


পুলিশ যুবকের নাম বলেছে জুবায়ের। তিনি পুলিশকে জানান, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মাদক দিয়ে তৈরি এসব খাবার সরবরাহ করা হচ্ছিল।

পরে তার দেয়া তথ্যে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ গাঁজার নির্যাস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য জব্দ ও চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়।

আটক তিনজন জানান, ইনস্টাগ্রামে কানাডিয়ান ও আফ্রিকান মাদক কারবারিদের তৈরি বিভিন্ন ভিডিও দেখে দেশীয় পদ্ধতিতে গাঁজা দিয়ে কেক, চকলেট ও মিল্কশেক তৈরি করে আসছিল।

এক কেজি গাঁজার চকলেট তৈরিতে পাঁচ কেজি গাঁজার নির্যাস প্রয়োজন হয় বলেও জানান তারা। এ কারণে তাদের তৈরি কেকের দামও অনেক বেশি ছিলো।

পুলিশ জানায়, গাঁজার নির্যাস থেকে তৈরি এসব সামগ্রী উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিজাত পরিবারের সন্তানরাই তাদের ক্রেতা।

আরও পড়ুন: ইভিএম নিয়ে খুশি কুমিল্লার প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা

গুলশান থানা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, আটকরা প্রায় এগারো শ’ সদস্যের একটি অনলাইন গ্রুপ চালাতো। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে পণ্য ক্রেতার বাসায় পৌঁছে দেয়া হতো।

চক্রটি স্থানীয়ভাবেই এসব পণ্য প্রস্তুত ও বিক্রি করছিলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে মাঝেমধ্যেই পাল্টে দেয়া হতো অনলাইন গ্রুপের নাম।

আটক তিনজকে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে। তারা কোথা থেকে খাদ্য তৈরির অন্য উপকরণগুলো পেয়েছে সেটিও জানার চেষ্টা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

একাত্তর/আরএ