নগরজুড়ে চলছে নির্ধারিত মাত্রার চারগুণ বেশি শব্দ দূষণ

রাজধানীর সব এলাকাতেই নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে তিন চারগুণ বেশি মাত্রার শব্দ দূষণ হচ্ছে। স্কুল ও হাসপাতালের সামনেও মিলেছে কয়েকগুণ বেশি মাত্রার শব্দ।

এমন পরিস্থিতিতে সচিবালয়ে এলাকায় শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১৫টি যানবাহনকে জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সোমবার সচিবালয় এলাকার পাশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসায় পরিবেশ অধিদপ্তর। রাস্তার উল্টো পাশে তখনও তীব্র হর্ন বাজিয়ে চলছে যানবাহন। 

অভিযান চলার সময়ই শত শত সরকারী-বেসরকারি গাড়ি অপ্রয়োজনে হর্ন বাজিয়েছে। অথচ যে সচিবালয়কে নীরব ঘোষণা করা হয়েছিলো সেখানেই মিলেছে সর্বোচ্চ ১১৫ ডেসিবেল।

যা নির্ধারিত মাত্রার দ্বিগুণ। একজন মানুষের স্বাভাবিক শব্দ গ্রহণের মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবল। আর সচিবালয় এলাকায় রাতে ৪০ ও দিনে ৫০ ডেসিবেল শব্দ মাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া আছে।

অভিযানে সরকারি গাড়িগুলোকে ছাড় দেয়া হয়েছে। আবার একই রাস্তার বিপরীত পাশের গাড়িগুলোকে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।

এভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত এক কথায় জানিয়ে দেয়, একদিনে সম্ভব নয়।

তবে, উচ্চশব্দে হর্ন বাজানোয় এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িকে জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী হাকিম নওরীন হক বলেন, নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিষেধ। কিন্তু অনেকেই সেটা মানতে চায় না। সে কারণে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি।

পরিদর্শক রিয়াজুল ইসলাম জানান, হাইড্রালিক হর্ন বাজানোর দায়ে ১৬টি গাড়িকে ৪,৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সিএনজি, চারটি প্রাইভেট কার এবং বাকিগুলো বাইক।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, রাজধানীর কোথাও শব্দের নির্ধারিত মাত্রা মানা হচ্ছে না। সব এলাকাতেই দুই তিনগুণ বেশী মাত্রার শব্দ মিলেছে।

সায়েদাবাদ টার্মিনাল এলাকায় মিলেছে সর্বোচ্চ ১০৩ ও সর্বনিম্ন ৮২ ডেসিবেল। সদরঘাটে সর্বোচ্চ ১০৫ ও সর্বনিম্ন ৭৬। ফার্মগেটে সর্বোচ্চ ১০৫ ও সর্বনিম্ন ৮৮ ডেসিবেল।

আরও পড়ুন: লিটারে পাঁচ টাকা কমছে জ্বালানি তেলের দাম, কার্যকর মধ্যরাতে

স্কুল-হাসপাতালের সামনে মিলেছে ৯৮ ডেসিবেল। এনিয়ে ন্যূনতম সচেতনতাও নেই চালকদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শব্দ দূষণের কারণে বাড়ছে বধিরের সংখ্যা। উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগ।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কামরুজ্জামা মজুমদার বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে আমাদের আগামী প্রজন্ম এক ভয়াবহ পরিণামের দিকে দ্রুত এগুচ্ছে।

একাত্তর/আরএ