যাত্রী সেজে প্রতারণা, অটোচালকের মাথায় হাত

যানবাহনে প্রতারণা আর ছিনতাইয়ের ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। প্রায় বেরিয়ে আসে অভিনব সব প্রতারণার কৌশল। তেমনই এক অভিনব কৌশলে সাত হাজার টাকা হারিয়েছেন রাজধানীর এক সিএনজিচালিত অটোচালক। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) রাতে।

প্রতারণার শিকার সিএনজি অটোরিকশা চালকের নাম মোহাম্মদ উজ্জ্বল। বাসা তার মিরপুরের বড়বাগ এলাকায়। অটোরিকশাটির মালিক উজ্জল নিজেই।

ফার্মগেট থেকে মিরপুর যাওয়ার জন্য একটি অটোরিকশাকে সিগন্যাল দেয়া হয়। তখন সময় রাত আনুমানিক বারোটা থেকে সোয়া বারোটা। গাড়ি থামিয়ে বলেন, কোথায় যাবেন, তখন বলা হলো মিরপুর। তা শুনে তিনি ভাড়া না মিটিয়ে বলেন, উঠেন।

তখন বলা হয় ভাড়া দেড়শ’ টাকা দিব, চালক বলেন, যা খুশি দিয়েন, না দিলেও নিয়ে যাবো। রাতে কোন যানবাহন ও পাচ্ছিলাম না, আবার কেমন জানি মনে হচ্ছিলো। ব্যাপার কি, এক কথায় রাজি হয়ে গেলো। আল্লাহর নাম নিয়ে উঠে পরলাম। আর চিন্তা করছিলাম।

তাকে জিজ্ঞেস করলাম যা খুশি দেন চলেন, এমনটা বললেন কেন? সে সময় চলন্ত অবস্থায় ওই চালক বলছিলেন, ভাই জীবনে এমন ধরা আর কখনো খাইনি। যা আজ ঘটেছে।

তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কি হয়েছে ভাই? তখন ওই চালক বলেন, ভাই সাত হাজার টাকা ধরা খাইছি। কাউকে বলার মতো না, মনটা খুবই খারাপ লাগছে।

কি ভাবে ধরা খাইলেন?  প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাত আনুমানিক ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা, গাবতলী মেইন রাস্তার পাশে একটি নতুন হোটেল আছে। সেখানে মাঝে মধ্যে খাওয়া-দাওয়া করি, হোটেলের সামনে যাত্রীর জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, আশপাশের একটি যাত্রী পেলে মিরপুরের দিকে চলে যাব, গ্যারেজ করবো, এমনটাই ইচ্ছে ছিলো।

সে সময় ঐ হোটেল থেকে এক লোক বের হয়ে বুঝাতে চাইলো, তিনি ঐ হোটেলের মালিক, এমনভাবেই আমার সাথে কথা বলছিলেন। আর বলছিলো, তিনি কারওয়ান বাজার যাবেন, হোটেলের জন্য কিছু কাঁচামাল কিনে আবার চলে আসবেন। বেশি সময় লাগবে না।

প্রথমে রাজি হইনি, কারণ রাত এগারোটায় গ্যারেজ করতে হবে, সময় কম। পরে তিনি একটু জোরই করলেন, যাবেন না কেন? কিছু কাঁচামাল কিনেই চলে আসবো। কিছু বুঝে উঠতে পারিনি, রাজি হয়ে গেলাম ভাড়া মিটিয়ে নিয়েছি পাঁচশ’ টাকায়।

ওই লোক কে নিয়ে রওনা হই। অটোরিকশায় বসে ওই যাত্রী মুঠোফোনে একজনের সাথে জোরেশোরে কথা বলছিল, তোরা কর্মচারী হয়ে, কাস্টমারের সেবা না করে, ম্যানেজার কর্মচারী দু’জনই মোবাইল দেখতে থাকিস। এভাবে শাসাতে ছিল। বলতে ছিল, মাত্র সাত হাজার টাকা দিয়েছি, এর মধ্যে কি সব মালামাল কেনা যাবে। তোরা টাকার যোগাড় কর, আমি মালামাল নিয়ে আসবো।

বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনি, আমি ভাবলাম তিনি হোটেল মালিক, তার তো আর টাকার সমস্যা নাই, হয়তো সাথে এতো টাকা নিয়ে আসেননি। তখন আমি তাকে বললাম, যদি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লাগে দেয়া যাবে, তবে একটু দ্রুত কেনাকাটা করতে হবে।

সে সময়ে আমার কাছে অন্য কাজের আরেক জনের ২০ হাজার টাকা ছিলো। সেই সুবাদে ওই কথা বলেছিলাম। কারওয়ান বাজার গিয়ে তিনি নেমে চালককে বলেন, মালগুলো একবারেই কিনে নেই- সাত হাজার টাকা থাকলে দেন, আমি গিয়েই দিয়ে দিব।

তখন আমি ভাবলাম তিনি তো হোটেল মালিক তাকে দেয়াই যেতে পারে। না বুঝে ঐ বিশ হাজার টাকা থেকে সাত হাজার টাকা দিয়ে দিলাম। আমাকে একপাশে দাঁড় করে তিনি বাজারে যান।

যাওয়ার সময় বলেন, সর্বোচ্চ আধঘণ্টার মধ্যে সব হয়ে যাবে।

পরে অপেক্ষায় বসে আছেন সিএজি অটোরিকশার চালক উজ্জ্বল। দশ মিনিট, বিশ মিনিট, ত্রিশ মিনিট, ৪০ মিনিট, অতিবাহিত হয়ে যায়। তার কোন খবর নাই। তার মোবাইল নম্বরটাও নিলাম না, বোকার মতো কাজ করলাম। তখন বুঝতে পারলাম যে, আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি।

পরে আরো কিছু সময় দেখে সেখান থেকে চলে আসলাম।

তিনি বলেন, এখন বুঝতে পারছি ওই লোকটির মুঠোফোনে কথাবার্তা সব কিছুই ছিল প্রতারণার অংশ। এই প্রতারণার বাস্তব গল্প বলতে বলতে মিরপুর চলে আসেন তিনি।

আরও পড়ুন: আটা-ময়দা দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিদেশি ব্রান্ডের প্রসাধনী

গন্তব্যে পৌঁছার পর মাঝ বয়সী অটোচালক বলেন, এখন আমি বাসায় গিয়ে কি জবাব দিব। একে তো অন্যের টাকা, যা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। আর, চলে যাওয়ার সময়ে বলেন, আমার মতো কাউকে বিশ্বাস করে এমন প্রতারণার শিকার না হন।


একাত্তর/আরএ