ঝাড়ফুঁক আর প্রতিশ্রুতির প্রাসাদ দিয়ে সড়কের নৈরাজ্য দূর করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন পরিবহন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সড়কের বিশৃঙ্খলার দায় সবার।
শনিবার, রাজধানীর বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশের আয়োজনে বক্তারা আরও বলেন, সড়কের নৈরাজ্যে বন্ধে প্রয়োজন সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন।
‘নিরাপদ সড়ক- কবে, কীভাবে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় সড়কে নৈরাজ্যের কারণ হিসেবে উঠে আসে সড়ক পরিবহন আইনের বাস্তবায়ন না হওয়া, অপরিকল্পিত সড়ক, দেখভালকারি সংস্থার যথাযথ দায়িত্ব পালন না করার বিষয়গুলো।
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, পরিবহন মালিকরা নিজেদের স্বার্থের বাইরে কারো কোনো উদ্যোগের তোয়াক্কা করে না। বলেন, পরিবহন মালিক, শ্রমিক আর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বলয়ের কারণেই থামানো যাচ্ছে না সড়কের নৈরাজ্য।
২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৪,৬১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৪৮৪ জনের। এই তথ্য তুলে ধরে পরিবহন বিশ্লেষকরা বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কমানো যাচ্ছে না দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হারও।
নৈরাজ্যে বন্ধে এখনো সড়ক পরিবহন আইন পাশ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন আলোচকরা। অভিযোগ করে বলেন, বিআরটিএ তাদের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন না করায় বন্ধ হচ্ছে না লক্কড় ঝক্কর গাড়ি চলাচল।
আলোচকরা আরও বলেন, বিআরটিএ তে কমছে না দালালের দৌরাত্ম্য। ফিটনেস বিহীন গাড়িও তাই পাচ্ছে চলার অনুমোদন।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, সড়কের ৬০ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ মোটরবাইক ও থ্রি হুইলার। এসব যান নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা চলছে। আর, দালালের দৌরাত্ম্য কামাতে প্রায় সব সেবা ডিজিটালাইজেশন করার প্রক্রিয়া চলছে।
আলোচকরা সবাই সড়কের নৈরাজ্য বন্ধে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই বলে মত দেন। গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন, এডিটরস গিল্ডের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য এবং দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।
আরও পড়ুন: প্রশ্নফাঁসে বিমানের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারী রিমাণ্ডে
আলোচনায় অংশ নেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. হুমায়ুন রশিদ খলিফা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এবং যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা।
একাত্তর/এসি