মেট্রোরেল: জানতে হবে যেসব তথ্য

অপেক্ষার পালা শেষ। রাজধানীবাসীর অনেক দিনের আকাঙ্ক্ষার মেট্রোরেল এখন ছুটে চলবে নিয়মিত। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পরদিন থেকে খুলে দেয়া হবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য।

শুরুতে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। পৌনে ১২ কিলোমিটারের এই পথ পাড়ি দিতে মেট্রোরেলের সময় লাগবে ১০ মিনিট ১০ সেকেন্ড।

শুরুতে মেট্রোরেল চলবে দিনে চার ঘণ্টা। সকাল ৮ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলার সময় ট্রেন মাঝপথে কোথাও থামবে না।

মেট্রোরেলে ছয়টি কোচে বসার আসন ৩১২টি এবং দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন এক হাজার ৯৯৬ জন। ট্রেনের দুই প্রান্তের দুটি কোচকে বলা হয় ট্রেইলর কার, সেখানে থাকবেন চালক।

এ দুটি কোচের প্রতিটিতে ৪৮ জন বসে ও ৩২৬ জনের দাঁড়িয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। আর মাঝের চার কোচের প্রতিটিতে ৫৪ জন বসে এবং ৩৩৬ জন দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে ছয় কোচের একটি ট্রেনে বসে এবং দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০৮ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। এর মধ্যে সব মিলিয়ে বসার সুযোগ পাবেন ৩১২ জন।

বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করবে মেট্রোরেল। আপাতত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল। যাত্রীদের স্টেশনে পৌঁছে দিতে ৩০টি দ্বিতল বাসের ব্যবস্থা করেছে বিআরটিসি।

যার মধ্যে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বিআরটিসির ২০টি দ্বিতল বাস চলবে। আর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং থেকে ১০টি দ্বিতল বাস চলবে দিয়াবাড়ীর মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশন পর্যন্ত।

মেট্রোরেলে যাতায়াতে যাত্রীদের জন্য দুই ধরনের টিকেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; একটি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহারের এমআরটি পাস, অন্যটি দিয়ে চড়া যাবে একবার।

শুরুতে মেট্রোরেল স্টেশনের কাউন্টার থেকে নির্দিষ্ট জামানত দিলে মিলবে এমআরটি পাস। আর একমুখী যাত্রার জন্য টিকেট মিলবে কাউন্টার এবং পাশের স্বয়ংক্রিয় টিকেট মেশিন থেকে।

যাত্রা শেষে নির্ধারিত মেশিনে টিকেট কার্ডটি ফেরত দিলে, তবেই স্টেশন থেকে বের হতে পারবেন যাত্রীরা। কোন ধরনের নিয়মের ব্যতয় হলেই গুণতে হবে জরিমানা।

এমআরটি পাস সংগ্রহের পর নিয়মিত যাতায়াতের জন্য কাউন্টারের পাশাপাশি টিকেট মেশিন, মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেও টপ-আপ করা যাবে।

এমআরটি পাস থেকে দূরত্ব অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেয়া হবে। যাত্রী যে কোনো সময় পাস ফেরত দিয়ে জামানতের অর্থ ও অব্যবহৃত টাকা ফেরত নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: মেট্রোরেলে ভ্রমণের পুরো প্রক্রিয়া

পাসটি হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে রেজিস্টার্ড কার্ডের বাহক নতুন এমআরটি পাস সংগ্রহ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে অব্যবহৃত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন এমআরটি পাসে স্থানান্তরিত হবে।

এমআরটি পাসের জন্য শুরুতে ৪০০ টাকা জমা করতে হবে। এর মধ্যে ২০০ টাকা জামানত ও ২০০ টাকা ভাড়া। পরে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত টপ আপ করা যাবে এ পাসে।

উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরা মেট্রো লাইনের দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার, নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।


একাত্তর/আরএ