বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও অংশে প্রথমবারের মতো যাত্রী নিয়ে ছুটবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেট্রোরেল। পৌনে ১২ কিলোমিটার উড়াল-রেলপথে মাত্র ১০ মিনিট ১০ সেকেন্ডে উত্তরা থেকে আগারগাঁও চলে আসবে মানুষ।
তবে প্রথমদিকে মেট্রোরেল চলবে সীমিত পরিসরে, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। মাঝপথে কোথাও থামবে না।
প্রথমদিকে ১০ মিনিট পরপর ট্রেন চলবে। আপাতত প্রতি মঙ্গলবার বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল।
স্টেশনের তৃতীয় তলায় প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানোর আগেই কয়েকটি ধাপ আসবে যাত্রীর সামনে। প্রথমে সড়ক থেকে সিঁড়ি বা চলন্ত সিঁড়ি কিংবা এস্কেলেটরে করে আপনাকে যেতে হবে দোতলায়; সেটি কনকোর্স এলাকা।
কনকোর্সের কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। মেট্রোরেলের দুই ধরনের টিকিট আছে। দীর্ঘমেয়াদি টিকিট হিসেবে এমআরটি পাস নিতে পারেন। অথবা কিনতে পারেন একবারের যাত্রার টিকিট। দুটোই পাওয়া যাবে কাউন্টারে।
পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ‘টিকিট বিক্রয় মেশিন’ থেকে সংগ্রহ করা যাবে একবারের যাত্রার টিকিট।
টিকিট কাটার পর ট্রেন ধরতে ঢুকতে হবে পেইড জোনে। সে জন্য অটোমেটেড প্রবেশ পথে নির্ধারিত জায়গায় টিকিট ছোঁয়ালে খুলে যাবে দরজা। এর পরের এলাকাই পেইড জোন।
এবার নির্দেশিত পথে কিছুটা হেঁটে সিঁড়ি কিংবা এস্কেলেটর ব্যবহার করে যেতে হবে তৃতীয় তলায়, সেখানেই প্ল্যাটফর্ম। তৃতীয় তলায় ওঠার জন্য বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা লিফটও ব্যবহার করতে পারেন।
প্ল্যাটফর্ম আর ট্রেনের মাঝামাঝিতে থাকবে ‘প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর (পিএসডি)’। নিরাপত্তার জন্য পিএসডি’র ধারে না দাঁড়িয়ে আপনাকে থাকতে হবে হলুদ দাগের বাইরে। সেখানেই অপেক্ষা করতে হবে ট্রেনের জন্য।
যখন একজন যাত্রী স্টেশনে অপেক্ষা করবেন, তখন গন্তব্যে আসা যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর তাকে ট্রেনে উঠতে হবে।
চড়ার পর ট্রেনে আসন ফাঁকা থাকলে সেখানে বসতে পারবেন যাত্রী। তবে বসার ক্ষেত্রে বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে মেট্রোরেলের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ।
নির্দেশনায় যাত্রীদের বলা হয়েছে, ট্রেনে চড়ার পর ডিসপ্লে ও রুট ম্যাপে খেয়াল রাখুন— আপনি কোথায় অবস্থান করছেন এবং আপনার গন্তব্য আর কতদূর, সব দেখানো হবে ডিসপ্লেতে। মাইকেও নিয়মিত ঘোষণা হতে থাকবে কোন স্টেশনে এলো, সামনে কোন স্টেশন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা তা শুনে নামার প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

গন্তব্যে পৌঁছে প্ল্যাটফর্মে নেমে আগের মতো সিঁড়ি, এস্কেলেটর কিংবা লিফট ধরে আপনাকে নেমে আসতে হবে দোতলায় অর্থাৎ কনকোর্স লেভেলে।
আরও পড়ুন: সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল
স্টেশন থেকে বের হওয়ার জন্য দোতলায় আবারও পাবেন অটোমেটেড দরজা। আপনি যদি এমআরটি পাসধারী হন, নির্ধারিত জায়গায় টিকিট ছোঁয়ালেই খুলে যাবে দরজা। আর একক যাত্রার টিকিটধারীকে নির্ধারিত জায়গায় টিকিটটি ফেলতে হবে। অটোমেটেড দরজা খুলে গেলেই আপনি বেরিয়ে গেলেন পেইড জোন থেকে।
যে গন্তব্য পর্যন্ত একক যাত্রার টিকিট আপনি কেটেছেন, আপনাকে সেই গন্তব্যেই নামতে হবে। আপনি যদি অতিরিক্ত পথ ভ্রমণ করে ফেলেন, তা হলে আপনি স্টেশন থেকে বের হতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে ‘বাড়তি ভাড়া আদায়’ কক্ষে গিয়ে অতিরিক্ত ভ্রমণ করা দূরত্বের ভাড়া পরিশোধ করার পরই কেবল বের হওয়ার সুযোগ পাবেন আপনি।
একাত্তর/আরএ
