৬৫ বছরের পুরনো রাজধানীর মগবাজার গার্লস স্কুলের নাম বদলে ফেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি এক প্রজ্ঞাপনে স্কুলটির নাম পাল্টে গাজী শামসুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল করার নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গাজী শামসুন্নেসা বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মা।
স্কুলটির বর্তমান কমিটির সভাপতি নিজ পরিবারের সদস্যর নামে এটির নামকরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, স্কুলের কাজের গতি বাড়াতেই নামের পরিবর্তন।
ইস্পাহানী গ্রুপের দান করা ৬৭ শতাংশ জমির উপর ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মগবাজার গার্লস হাইস্কুল। দীর্ঘ ৬৫ বছর এই নামেই পরিচিত ছিলো স্কুলটি। নাম নিয়ে কোন জটিলতাও ছিলোনা। হঠাৎ গেলো ডিসেম্বরে একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে পাল্টে গেলো স্কুটির নাম।
মগবাজার গার্লস স্কুলের পরিবর্তে এখন এটির নাম হয়েছে গাজী শামসুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল। গেলো ২০ মার্চ নাম পরিবর্তনের এই ঘোষণা দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড।
বর্তমানে স্কুলটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রীর ছেলে গোলাম আসুরিয়া। গাজী শামসুন্নেসা তাঁর দাদির নাম। জানা গেছে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হবার পরই নাম পরিবর্তনের তোড়জোড় শুরু। মন্ত্রী নিজেও ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, স্কুলের সার্বিক কার্যক্রমে গতি আনতেই নামের পরিবর্তন।
জানা গেছে, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এই নামকরণের অনুমতি দিয়েছে। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোবারেকা খালেদ গত ৭ ডিসেম্বর নাম পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন।
তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শন প্রতিবেদনের পর বেশ দ্রুতগতিতেই নাম পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়। এরই মধ্য তড়িঘড়ি করে প্রতিষ্ঠানের নাম ফলকও পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬ জন শিক্ষক আর প্রায় ৩০০ ছাত্রী রয়েছে। ইস্পাহানি গ্রুপের দানে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন এই স্কুলের জায়গাটিও তাদেরই দেওয়া।
মগবাজার গার্লস হাই স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি সাবেক সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশার আশঙ্কা, এটিকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন। তবে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলছেন, নিয়ম মেনেই এটি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পৈতৃক বাড়ি থেকে বড় বোনকে বের করে দিলেন ছোট বোন
তিনি বলেন, নাম পরিবর্তনের আবেদন পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল। আমাদের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে এসে প্রতিবেদন দিয়েছেন। আমরা তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয় সবকিছু বিবেচনা করে নাম পরিবর্তনের অনুমতি দিয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালেও স্কুলটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম দস্তগীর গাজী।
একাত্তর/এসজে