রানা প্লাজা ধসের ১০ বছর

অনেক কিছু বদলেও থমকে আছে আহতদের জীবন

রাজধানীর অদূরে সাভারে রানা প্লাজা ধসের এক দশকে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প-কারখানার নিরাপদ কর্মপরিবেশ অনেকটাই নিশ্চিত হলেও, সেই ট্রাজেডিতে আহত শ্রমিকের জীবন থমকে গেছে। তাদের কেউ কেউ কেবল নিজের চেষ্টায় ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। ছিলো না কোনো পুনর্বাসন সহায়তা। আর পোশাকখাতে এখানেই ঘাটতি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ধসে পড়া রানা প্লাজার পাঁচ তলার পোশাক কারখানায় সুইং অপারেটর হিসাবে কাজ করতেন নিলুফার বেগম। ধসে পড়া ভবনে নিহত শ্রমিকদের নিচে চাপা পড়েছিলেন তিনি। পিলারের নিচে চাপা পড়েছিলো তার পা।

রানা প্লাজার মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে আসার সেই ঘটনা মনে করে আজও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নিলুফার।

সেই দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন পা। এরপর স্বামীও তাকে ছেড়ে গেছে। এখন একমাত্র সন্তান নিয়ে তার বেঁচে থাকার লড়াই। গেলো দশ বছরে সহায়তা পেয়েছেন সামান্য। 

সেই সম্বলটুকু নিয়েই নিলুফার চালাচ্ছেন একটি পানের দোকান। জীবন সংগ্রাম চালিয়ে নিতে এর চেয়ে বেশি কিছু করার সামর্থ্য তার নেই। নেই কোন নিশ্চয়তার চাবিকাঠি।

লিমা বেগমের গল্পটা আরেক রকম। তার লড়াইটা দুই সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার। রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় তার কোমরের হাড় ফেটে যায়। তা নিয়েই এখনও একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন তিনি। ভাবছেন বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েই অবসর নেবেন।

অধিকার বঞ্চিত এই শ্রমিকরা দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ বা চিকিৎসা কিছুই পাননি। তাদের মন আজও বয়ে বেড়াচ্ছে ভবন ধসে পড়ার সেই আতঙ্ক। তাই বড় কোন ভবনে উঠলেই ভয় পান তিনি। যে কারণে অনেকেরই বহুতল কোন কারখানায় কাজ করতে পারেন না। তার মতো শ্রমিকরা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কেবল নিজের চেষ্টায়।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পোশাক শিল্প। বিশ্বের প্রথম সারির দশটি কারখানার সাতটাই এখন বাংলাদেশে। যেখানে নিশ্চিত করা হয়েছে নিরাপদ কর্মপরিবেশ।

কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার যে সব শ্রমিকের ত্যাগের বিনিময়ে পোশাক শিল্পের এই ঘুরে দাঁড়ানো; তাদের বঞ্চনার অবসান হয়নি। তাদের ঘুরে দাঁড়াতে হয় কেবল নিজের চেষ্টায়।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের সাভারের রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৮ জন পোশাক কর্মী নিহত ও দুই হাজারের বেশি শ্রমিক আহত হন।

আরও পড়ুন: ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানালেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

এরপর দেশের পোশাক ও বস্ত্র খাতের শ্রমিকদের জন্য কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে একই বছরে ব্র্যান্ডগুলোকে নিয়ে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স জোট গঠিত হয়। তা গঠিত হয় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে। এর মাধ্যমেই বড় প্রায় দুই হাজার কারখানার সংস্কারকাজে ধাক্কা লাগে।


একাত্তর/আরএ