ঢাকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিহ্নিত ওয়ার্ডগুলোতে এডিস নিধনে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। ঝুঁকিপূর্ণ ২৫টি ওয়ার্ডে তিনদিন ধরে চলবে এই অভিযান।
রাজধানীর ওয়ারী এলাকার নির্মাণাধীন এই বহুতল ভবন। যার ঠিক সামনেই পানির মিটার রাখার নির্ধারিত জায়গা। ছোট্ট এই জায়গার স্বচ্ছ পানিতে পাওয়া গেলো এডিস মশার লার্ভা।
মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের চিরুনি অভিযানে নির্মাণাধীন বহুতল এই ভবনে গিয়ে ধরা পড়ে ভবন কর্তৃপক্ষের নানা উদাসীনতা। তাই, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে।
ভবনের কেয়ার টেকার বলেন, বৃষ্টির একটু পানি জমছিলো।
ঢাকা দক্ষিণের ২১টি ওয়ার্ডে এডিস মশা জন্মানোর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পাশাপাশি আরও চারটি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে সিটি কর্পোরেশন। সবমিলে ঝুঁকিপূর্ণ ২৫টি ওয়ার্ডে মঙ্গলবার থেকে তিনদিনের চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিসের উৎস খোঁজার পাশাপাশি নগরবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, জরিমানাটা বড় কথা নয়, বড় হলো সবার সচেতনতা। সবাই যদি সচেতন হন, তাহলে আর জরিমানা করা লাগবে না।
রাজধানীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ ঢাকা দক্ষিণে। যদিও দক্ষিণের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলছেন, ঢাকার বাইরে থেকেও বহু ডেঙ্গু রোগী ঢাকা দক্ষিণের হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। নগরবাসী সচেতন হলে মাত্র সাতদিনেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
ঢাকা দক্ষিণের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির বলেন, প্রতিদিনের পানি যদি প্রতিদিন পরিষ্কার করে ফেলা যায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে কমে যেত।
আরও পড়ুন: দুটি ধরন ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের
বাসাবাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত নানা পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা জন্মায়। তাই, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে মনে করছে নগর প্রশাসন।
একাত্তর/আরএ