রাজধানীর দুই সিটির হাসপাতালেই হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। নানা জটিল লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন রোগীরা। কেবল জ্বর বা মাথা ব্যথাই নয়; ডায়রিয়া, বমি, রক্তচাপ কমে যাওয়া ও মস্তিস্কে সমস্যার লক্ষণ নিয়ে শরীরে ডেঙ্গুর ধরা পড়ছে। তাই, এ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষার কথা বলছেন চিকিৎসকরা।
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। ইতিমধ্যে এ বছরের জুন মাসে রেকর্ড সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। জুলাইতে সেই রেকর্ডও ভেঙে যাবে বলা শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
এরই মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভরসার কেন্দ্রে পরিণত হওয়া মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন একশরও বেশি নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।
জুলাইয়ের সাত দিনেই রোগী ভর্তি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬০০ জন ডেঙ্গু রোগী। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামালাতে হিমশিম কর্তৃপক্ষ। বিছানায় ঠাঁই মিলছে না। তাই ফ্লোরেই চলছে চিকিৎসা।
রোগীদের একেকজন একেক রকম শারীরীক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। শুধু জ্বর বা মাথা ব্যথা নয়। এবার বেশিরভাগ রোগীরই ডায়রিয়া ও বমির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
ওষুধেও ডায়রিয়া ও বমি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। অনেকের আবার রক্তচাপ কমে যাচ্ছে। কোনো কোনো রোগীর মস্তিকেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক রোগীর দ্রুত প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এমন জটিল অবস্থা নিয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে তাদের ঝুঁকি বেশি। সেক্ষেত্রে কেবল জ্বর দেখে নয়। এসব লক্ষণ থাকলে ডেঙ্গু পরীক্ষার কথা বলছেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে পানিশূণ্যতা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রোগীকে তরল খাবার বেশি দিতে হবে। সেই সঙ্গে বাসায় মশার বংশ বিস্তার রোধ করতে সচেতন হতে হবে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন ১৮২ জন রোগী সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন।
আরও পড়ুন: রাখাইনে গণহত্যা তদন্তে সহযোগিতা করছে না মিয়ানমার
নতুন ভর্তি রোগীর ৭২ জন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১০ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সারাদেশে দুই হাজার ১৬৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে এক ৫২৮ জন এবং ঢাকার বাইরে সারাদেশে ৬৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
একাত্তর/এসি