রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্ত দলকে মিয়ানমার কোন সহযোগিতা করছে না বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান প্রসিকিউটর করিম আসাদ আহমেদ খান।
সহযোগিতা না করলে বিকল্প উপায় খুঁজে বের করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশে পাঁচ দিনের সফরে এসে তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশনের প্রধান দায়িত্ব এই ঘটনায় কে দায়ী, নিরপেক্ষ তদন্তে সেটি নিশ্চিত করা।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে সংগঠিত গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যে মামলা হয়েছে তার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দ্বিতীয়বারের মত বাংলাদেশ সফর করছেন সংস্থাটির প্রধান প্রসিকিউটর করিম আসাদ আহমেদ খান।
মামলার তথ্য প্রমান সংগ্রহের জন্য তদন্ত দলের মিয়ানমারের ঘটনাস্থলে যাওয়াও জরুরি। কিন্তু এখনও তারা মিয়ানমার যেতে পারেননি। সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে নির্যাতনের সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন তারা।
চার দিনের কক্সবাজার সফর শেষে শুক্রবার দুপুরের দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরে সংবাদ সম্মেলনে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর করিম আসাদ বলেন, তদন্তে মিয়ানমার কোন সহযোগিতা করছে না।
মামলা এগিয়ে নিতে সব কিছুই করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি জানান, নির্যাতনের জন্য কে দায়ী সেটি নিশ্চিতেই কাজ চলছে। তবে তদন্তের কোন সময়সীমা ও অগ্রগতির তথ্য তিনি দেননি। তবে ন্যায় বিচারের পতাকা নিয়ে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রসংসা করেন তিনি।
কবে নাগাদ রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচার শেষ হতে পারে- এমন প্রশ্নের উত্তরে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি বলেন, বিচার নিয়ে চূড়ান্ত তারিখ বলা সম্ভব নয়। আমরা রোহিঙ্গা নির্যাতনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। এ বিচারে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছি। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালে ভারতে বাংলাদেশের মানুষও আশ্রয় নিয়েছিল। সে কারণে মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এ ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের অবশ্যই প্রশংসা পাওয়া উচিত।
রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে আইসিসির কৌঁসুলি বলেন, গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমেছে রোহিঙ্গাদের। জনপ্রতি একজন রোহিঙ্গা দিনে ৯ টাকা করে সহায়তা পাচ্ছেন। এখন একটি ডিমের দাম ১২ টাকা। তাহলে এ অর্থ দিয়ে তারা কীভাবে খাদ্য সহায়তা মেটাবে?
করিম আসাদ আহমেদ খান বলেন, আমি এবার দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফর করলাম। এ দেশের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। আশা করি, আগামী বছর আবার আসবো। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- আইসিসির প্রসিকিউটর এসা ফাল ও আইসিসির প্রধান কৌঁসুলির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সান্তাল ডেনিয়েলস।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে মার্কিন ভূমিকাকে 'নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ' মনে করছে রাশিয়া
২০১৭ সালের মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ লাখো রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়। ২০১৯ সালে একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এই অপরাধের বিচারের লক্ষে তদন্ত শুরুর আহ্বান জানান।
একাত্তর/এসি
