যুদ্ধাপরাধী বলায় ক্ষোভ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা

যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। 

সোমবার গভীর রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় তারা সংবাদমাধ্যমে সাঈদীকে যুদ্ধাপরাধী বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে। 

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার রাতে মারা যান যুদ্ধাপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা সাঈদী। এরপরই নাশকতা সৃষ্টি করে দলটির নেতাকর্মীরা।

সাঈদীর মৃত্যুর খবর সংগ্রহ করতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে যান সাংবাদিকরা। আহত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা সাঈদীর মৃত্যুর খবর সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এসময় তারা সাঈদীকে যুদ্ধাপরাধী বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন।


জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের হামলায় আহত দুই টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক ও এক ক্যামেরাপারসনকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

ভোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় জামায়াত নেতাকর্মীরা। ঘটে ধাওয়া- পালটা ধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: জামায়াতের তাণ্ডব, সাঈদীর গায়েবানা জানাজার অনুমতি মেলেনি

সংঘর্ষের সময় উগ্র জামায়াত নেতাকর্মীরা পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে মোটরসাইকেল। কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ।

ওই রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতা চালায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। ওই তাণ্ডবে প্রথম তিন দিনেই নিহত হন অন্তত ৭০ জন। এছাড়া বহু গাড়ি-দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের মন্দির-ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়।

একাত্তর/আরবি