জামায়াতের নেতাকর্মীরা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়ানোর পর যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজার অনুমতি দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা মেট্রোপলিটন কমিশনার (ডিএমপি) খন্দকার ফারুক আহমেদ।
এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, জামায়াত ‘অগ্নিসন্ত্রাস’ করে বলেই পুলিশের ওপর হামলা করেছে এবং হাসাপাতালে অরাজকতা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় জামায়াত নেতাকর্মীরা। ঘটে ধাওয়া- পালটা ধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।
সংঘর্ষের সময় উগ্র জামায়াত নেতাকর্মীরা পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে মোটরসাইকেল। কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের হামলার আহত হয়েছেনে একাধিক সাংবাদিক।

পুলিশ কমিশনার ফারুক আহমেদ বলেন, জামায়াতের চরিত্র পাল্টায়নি। ২০১৩ ও ১৪ সালে তারা যে তাণ্ডব চালিয়েছিল, হেলমেট দিয়ে পুলিশের মাথা থেঁতলে দিয়েছিল, তা আবার প্রমাণ করল।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার রাতে মারা যান যুদ্ধাপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। এরপরই নাশকতা সৃষ্টি করে দলটির নেতাকর্মীরা।
ডিএমপি কমিশনার জানান, সাঈদীর মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে চায় তার পরিবার। পুলিশ সেটি মানলেও মরদেহ নিতে কালক্ষেপণ করে পরিবার ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
ভোরে নামাজের পর তারা সাঈদীর মরদেহবাহী গাড়ি আটকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সকল নেতাকর্মীদের শাহবাগে জড়ো হতে আহ্বান জানাতে থাকে।
পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া না দিয়ে সহিংসতা কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় জামায়াত নেতাকর্মীরা।

সাঈদীর মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে যাওয়ার তার দুই ছেলে পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, পুলিশও সেভাবে প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা করছিল। কিন্তু মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীরা ও সাঈদীর আত্মীয় স্বজনরা তাণ্ডব চালিয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট ডেকেছিল। ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়।
আর এই সময় জামায়েত ইসলামীর কয়েক হাজার নেতাকর্মী হাসপাতাল ও আশপাশে এসে হাজির হয়ে তাণ্ডবে মেতে ওঠেন বলে জানান ফারুক আহমেদ।

তিনি বলেন, রাত সোয়া ২টায় মোনাজাত করে এবং মরদেহ নিয়ে বের হওয়ার সময় হাজার হাজার নেতাকর্মী লাশবাহী গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে এবং পুলিশের উপর হামলা করে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তারা দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।
খন্দকার ফারুক আহমেদ বলেন, ফজরের নামাজের পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল দখল করে নেয় জামায়াত নেতা-কর্মীরা। তারা ফেসবুকে অন্যদেরও শাহবাগে আসার আহ্বান জানায়।
পরে পুলিশ মিনিমাম শক্তি প্রয়োগ করে তাদের সরিয়ে দেয় এবং মরদেহ পিরোজপুরে পাঠায় বলে জানান পুলিশ কমিশনার।
হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ।
ওই রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতা চালায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। ওই তাণ্ডবে প্রথম তিন দিনেই নিহত হন অন্তত ৭০ জন। এছাড়া বহু গাড়ি-দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের মন্দির-ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়।
একাত্তর/আরবি
