সাঈদীর চিকিৎসককে হুমকিদাতা শিবিরকর্মী

জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চিকিৎসক এস এম মোস্তফা জামানকে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, দলীয় ও রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও আক্রোশ থেকে এই কাজ করেছেন তিনি। 

বুধবার রাতে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে তাফসিরুল ইসলাম (২৩) নামের ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র‍্যাব। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাফসিরুল জানান, তিনি স্থানীয় একটি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ালেখা করছেন। তিনি স্কুলজীবন থেকেই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন সক্রিয় সদস্য। এছাড়াও তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রফি এলাকার জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী। ২০১৩-২০১৪ সালে এলাকায় নাশকতা সৃষ্টির অপরাধে তার বাবার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং উক্ত মামলাসমূহে তার বাবা কারাভোগ করেন। 

তাফসিরুল জানান, আইটিতে দক্ষ হওয়ায় অনলাইনে ইমেইল মার্কেটিংয়ের কাজ করে মাসে ১০-১২ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দ্বারিয়াপুর, মহেশপুর#তাফসিরুল ইসলাম’ ও ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দ্বারিয়াপুর, মহেশপুর@তাফসিরুল ইসলাম’ নামে দুইটি ফেইসবুক গ্রুপ ‘গ্রুপ এডমিন’ হিসেবে পরিচালনা করেন তিনি।

গত ১৪ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান যুদ্ধাপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। তার মৃত্যুর পর তাকে চিকিৎসা দেয়া ডা. এস এম মোস্তফা জামানকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। 

দলীয় ও রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও আক্রোশ থেকে সাঈদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডা. মোস্তফা জামানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বিভিন্ন মাধ্যমে খুঁজে বের করে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেইসবুক মেসেঞ্জারে তাকে বিভিন্ন হুমকি দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন তাফসিরুল। 

আরও পড়ুন: সাঈদীর চিকিৎসককে হত্যার হুমকি, গ্রেপ্তার আরও এক

পরে ভুক্তভোগী চিকিৎসক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী করলে তাফসিরুল উক্ত মেসেজ শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ থেকে মুছে ফেলেন। কিন্তু তার মোবাইলে উল্লিখিত হত্যার হুমকি সম্বলিত মেসেজের স্ক্রিনশট পাওয়া যায়। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র‍্যাব। 


একাত্তর/এসজে