দীর্ঘদিন পানিতে তলিয়ে আছে ডেঙ্গুর হটস্পট রাজধানীর জুরাইনের আলমবাগ এলাকার সড়ক। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় তিন বছর সড়ক থেকে পানি সরছে না। এক ঘণ্টা পানি নিষ্কাশন পাম্প বন্ধ রাখলে, এলাকার সব রাস্তা পানি জমে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এবার জুরাইন-কদমতলী এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সব থেকে বেশি। কমিশনার রোড, মিষ্টির দোকান, বিড়ি ফ্যাক্টরি, আলমবাগ, মুরাদপুর, ঋষিপাড়া, নামা শ্যামপুর, শনির আখড়া, ধোলাইরপাড় ও দনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু। এই অবস্থায় ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হয়েছে আলমবাগ এলাকা। ময়লা পানিতে থইথই ভাসছে গোটা এলাকা। পরিস্থিতি এতোটাই বেগতিক যে সড়ক পাশে বস্তা দিয়ে বানানো বিকল্প পথে করতে হয় চলাচল।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের জুরাইন আলমবাগ সড়কের চিত্র। যেখানে সারা বছরেই বর্ষাকালের মতো হাঁটু সমান পানি থাকে। শীত-বর্ষা- সব সময়েই ডোবা। প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে হাঁটু সমান পানির কারণে বেশ ভোগান্তিতে রয়েছে সেখানকার বাসিন্দারা।
ব্যবসা ছেড়েও চলে যাচ্ছেন দোকানিরা। এখানকার স্কুল, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমছে দিন দিন। প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে এই অবস্থা এই সড়কের। তবে সাত-আট বছর ধরে সমস্যা অনেক বেশি। মূলত পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সড়কে এমন পানি জমে থাকে। এমনকি বাসাবাড়ির পানিও সড়কে আসে।
স্থানীয়দের দাবি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত সব পানি জমা হয় রাস্তায়। গেলো তিন বছর রিকশা ছাড়া এসব রাস্তায় আর কোনো যান চলাচল করে না। জমা পানিতে খানাখন্দ ঢাকা পড়ায় হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। একঘণ্টা নিষ্কাশন পাম্প বন্ধ রাখলে জলমগ্ন রাস্তাও পুরোপুরি চলাচল অনুপযোগী হয়ে যায়
চলাচলের দুরবস্থার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে আশঙ্কাজনকভাবে এই এলাকায় বেড়েছে ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা। এতো বছর ধরে সেখানে এমন অব্যবস্থাপনা থাকলেও তা নিরসনের কোনো উদ্যোগ নেই।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত, মারা যাচ্ছেন বেশি নারীরা
যদিও, জলাবদ্ধতার বদলে স্থানীয় কাউন্সিলর দুষছেন আলমবাগের অধিবাসীদের। তার দাবি এলাকার মানুষের কারণে নির্মূল করা যাচ্ছে না এডিসের লার্ভা। পদ্মা রেল সড়কের নির্মাণ করতে গিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ক্ষতি হওয়ায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা জানালেন তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতায় তারা ভুগলেও জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস দিয়েছে দায়িত্ব সেরেছেন। তারা মনে করেন, এখন সেখানে নতুন ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি ছাড়া এই পানি সরার কোনো জায়গা নেই।
একাত্তর/এসজে