নিরাপত্তা কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিন দিন বয়সী এক নবজাতক (পুত্র) চুরি হয়েছে। নিরাপত্তার ছিদ্র গলিয়ে কীভাবে নবজাতক চুরি হলো তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার পর গাইনি বিভাগের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুমন্ত মায়ের কাছ থেকে নবজাতকটিকে চুরি করে নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক।
তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, একটি শিশু ওয়ার্ড থেকে চুরি হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ইতিমধ্যে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। তারা অলরেডি কাজ করছে।
সিসিটিভির ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের চেষ্টা চলছে জানিয়েছে তিনি বলেন, আমাদের এখান থেকে কোন ছাড়পত্র ছাড়া নবজাতক বের করা যায় না। প্রতিটি গেইটেই আনসার মোতায়েন করা রয়েছে। কিন্তু এ শিশুটিকে কীভাবে বের করা হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, এক নারী জরুরি বিভাগের পাশে ভ্যাকসিন দেয়ার গেট দিয়ে নবজাতক নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন।
ওই গেটটি দুপুর দুইটার পর বন্ধ করে দেয়ার কথা হলেও কেন খোলা ছিল তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
হাসপাতালের পরিচালক বলেন, দুপুরে সময়ের সকল ফুটেজ শিশুটির স্বজনদেরও দেখানো হচ্ছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা দেখে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেবে।
অভিযোগ পেয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন শিশুটির পরিবারের বক্তব্য শুনেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছেন। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নবজাতকের পিতা ভোলা সদর উপজেলার শান্তির হাট গ্রামের রাজ মিস্তি হিরন মিয়া। স্ত্রী শাহিনা বেগমকে নিয়ে থাকেন মিরপুরের রূপনগর এলাকায়। চুরি হয়ে যাওয়া নবজাতকটি এই দম্পতির প্রথম সন্তান।
মঙ্গলবার রাতে শাহিনা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাত আটটায় সিজারের মাধ্যমে পুত্র সন্তান হয়।
ওই নবজাতকের দাদি বলেন, বাচ্চাটিকে তার মায়ের কাছে রেখে বারান্দায় কাপড় নাড়তে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি বাচ্চা নেই। আশপাশে অনেক খুঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আনসার সদস্যদের জানাই।
ওয়ার্ডে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মিঠুনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, শিশুটির দাদি দুপুর আনুমানিক সোয়া দুইটার দিকে আমাকে বলেন, আধাঘণ্টা যাবত আমাদের বাচ্চাটি পাচ্ছি না।
আনসার সদস্য মিঠুন দাবি করেন, যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সেই সময় দায়িত্বে ছিলেন মাসুদ নামে আরেকজন। আমি ডিউটিতে থাকার সময় নবজাতক নিয়ে কাউকে যেতে দেখিনি।