বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে কারাগারে বিশেষ মর্যাদা বা ডিভিশন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বিষয়টি আদালতকে জানান।
তিনি বলেন, তাদের ডিভিশন দেওয়ার জন্য গত ৯ ডিসেম্বর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট আদেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার থেকে তাদের ডিভিশন দেওয়া হয়েছে।
পরে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহামদ আলীর বেঞ্চ আদেশের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তাদের সহায়তা করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী মো. কামরুল ইসলাম সজল ও ব্যারিস্টার ফজলুর রহমান মণ্ডল জুয়েল। শুনানিকালে মির্জা ফখরুল ও আব্বাসের স্ত্রী ছাড়াও শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের পক্ষে তাদের স্ত্রীরা রিট করেন। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দু’জনের পক্ষে পৃথক দুটি রিট করা হয়।
মির্জা ফখরুলের জন্য কারাগারে ডিভিশন চেয়ে তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম রিট করেন। আর মির্জা আব্বাসের জন্য কারাগারে ডিভিশন চেয়ে রিট করেন তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।
রিটের বিষয়টি জানিয়ে তাদের আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাস উভয়ই সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। এ কারণে আইন অনুসারে তারা কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। অথচ কারা কর্তৃপক্ষ তা উপেক্ষা করে তাদের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার খর্ব করেছে। তাই পৃথক দুটি রিট করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিএনপির আরো পাঁচ নেতার ডিভিশন চেয়ে হাইকোর্টে রিট
মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের বাসায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পৃথক অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দু’জনকে প্রথমে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে।
এরপর প্রায় ১১ ঘণ্টা পর তাদের গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
ডিবি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানায়, ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা, উস্কানিদাতা, পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে পল্টন থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
একাত্তর/আরএ