জেলার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা এবং সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী এই দুটি উপজেলাতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক ও স্বর্ণ চোরচালানে নিরপদ রুট হিসাবে পরিচিত রয়েছে। এ সব রুটে অবৈধভাবে চোরাচালানী ব্যবসা প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির পরিবারের ছত্রছায়ায় হয়ে থাকে বলে দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটাররা অভিযোগ করেছেন। আর সেই কারণেই এর প্রভাব পড়বে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনেই রয়েছে দেশের একমাত্র মদ উৎপাদনকারী ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনিকল।
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাদক ও চোরচালানের বিষয়ে অস্বীকার করে জানান, তিনিও চান জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক, তার সময়ে অনেক উন্নয়ন হওয়ার কথা তুলে ধরেছেন। এ আসনের জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলার মানুষের যখন রাস্তাঘাট খানা-খন্দ, কালভার্টের অবস্থা নাজুক দুর্ভোগ ও জনভোগান্তি রয়েছে।
আসনে একসময় দাপট ছিল বিএনপি ও জামায়াতের। তবে ২০০৮ সালে এখানে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। এর পর থেকে এ আসনে পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলী আজগার টগর। তিনি মনে করেন, ব্যাপক উন্নয়নের কারণে ভোটাররা তাকেই আবারও নির্বাচিত করবেন।
সুষ্ঠু ভোট হলে অবশ্য আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলছেন স্থানীয় ভোটাররা। এছাড়া বড় ফ্যাক্টর হতে পারে জামায়াতও। তবে কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সমঝোতা না হলে এ আসন আবার আওয়ামী লীগের দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
নির্বাচন করার জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য আলী আজগার টগর। এলাকায় তৈরি করেছেন নিজস্ব বলয়। এলাকায় যথেষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তিনি। তবে এখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে কোন্দল। এটা তার জন্য নেতিবাচক ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করতে পারে।
টগর ছাড়াও মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাদুল ইসলাম আজাদ ও হাশেম রেজা। ভোটের মাঠে হাশেম রেজা খুব একটা সক্রিয় নন। তবে আজাদুল ইসলাম আজাদ ২০ বছর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
চুয়াডাঙ্গা-২ বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় দলটি। বিএনপি নেতা মোখলেসুর রহমান তরফদার টিপু, আতিকুল হক মিথুন ও মাহমুদুর রহমান তরফদার শাওন নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় এ আসনে এখন বিএনপির একক প্রার্থী বলা যায় কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হাসান খান বাবু।
দলীয় কোন্দল থাকলেও এখন নেতা-কর্মীরা প্রায় সবাই রয়েছেন তার অধীনে। মাঠ গোছাতে নিয়মিত সভা, সমাবেশ ও কেন্দ্র ঘোষিত আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। তৃণমূলেও তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির রুহুল আমিন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি দলীয় নির্দেশনা মেনে নিচ্ছেন নির্বাচনের প্রস্তুতি। দলীয় কর্মীদের চাঙা রাখতে তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি জানান, দল নির্বাচন না করলেও তিনি মাঠে থাকবেন।
দেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী খ্যাত চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে সদর উপজেলার ৪টি, দামুড়হুদা উপজেলার ৮টি এবং জীবননগর উপজেলার ৮টি অর্থাৎ ২০টি ইউনিয়ন, দুটি পৌরসভা ও তিনটি থানা নিয়ে গঠিত।
এ নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার চার লাখ ৬৮ হাজার ১৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ জন এবং মহিলা দুই লাখ ৩১ হাজার ২৭৫ জন। এ আসনের বেশিরভাগ ভোটার কৃষি ও কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ও রেলবন্দরসহ অন্য শ্রমিকের সংখ্যাও কম নয়।