দীর্ঘ দিন রাস্তা সংষ্কার না করা, নির্বাচিত হওয়ার পর ভোটারদের পাশে না থাকা প্রকাশ্য দলের মধ্যে দ্বন্দ্বসহ নানা কারণে ভোটারদের মনে ক্ষোভের দানা বেঁধে রয়েছে। সে কারণে যিনি উন্নয়ন করবেন তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ভোটাররা।
আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থীর পাশাপাশি দলীয় কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। বিএনপির মধ্যেও রয়েছে অন্তর্দ্বন্দ্ব, তাদেরও রয়েছে একাধিক প্রার্থী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে চালাচ্ছে গণসংযোগ ও প্রচার। বিএনপি আন্দোলনে থাকলেও তারা নিয়ে রেখেছে প্রস্তুতি। আর জামায়াতে ইসলামী গোপনে চালাচ্ছে তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড।
ভুট্টা, পান, আখসহ ফল-ফসলে সমৃদ্ধ চুয়াডাঙ্গা-১ আসন। লালন সুর সাধক খোদাবক্স শাহের আলমডাঙ্গা আর বহু সুফি সাধক ও পরী আউলিয়ার পুণ্যভূমি এ আসনকে মর্যাদাবান করেছে। মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে জেলা সদর ও জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা আলমডাঙ্গা নিয়ে গঠিত এ আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার আসনটি রয়েছে আওয়ামী লীগের দখলে। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ছিল বিএনপির কবজায়। বর্তমানে নৌকার পক্ষের অনুকূল আসনটি পুনরুদ্ধারে ধানের শীষ মার্কা নিয়েও বিএনপি নির্বাচনী মাঠে তৎপর। তবে বড় দুই দলে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।
২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের জাসদের সাধারণ সম্পাদক এম সবেদ আলীকে পরাজিত করে আওয়াী লীগের নৌকার টিকিট নিয়ে সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারপরও গত ২০১৮ সালে তিনি বিএনপির প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরিফকে পরাজিত করে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
কিন্তু দ্বাদশ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করলে দল ও বঞ্চিত ভোটারদের তোপের মুখে পড়তে হবে সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন সংসদ সদস্যকে। দলের মধ্যে একদিকে রয়েছে একাধিক গ্রুপ, পরিবার তন্ত্র, উন্নয়ন বঞ্চিত এলাকাবাসীর ক্ষোভও রয়েছে।

আওয়ামী লীগ থেকে টিকিটি নিতে মাঠে গণসংযোগে রয়েছেন অর্ধ ডজনের বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা সরকারের নানা উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে উন্নয়ন বঞ্চনা ও কোন্দলের বিষয়ে বর্তমান সংসদ সদস্যর কাছে জানতে চাইলে ক্যামেরার সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
গত ১২ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলেও, এখনও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। গ্রুপিংয়ের কারণে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে নেতারা আছেন চিন্তায়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেশি দিন বাকি না থাকলেও, আনুষ্ঠানিক প্রচারে এখনও মাঠে নামেননি কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশী।
মনোনয়ন পেতে তৎপর এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুল হক বিশ্বাস, ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী, সামসুল আবেদীন খোকন, দিলিপ কুমার আগরওয়ালা, আসাদুল হক বিশ্বাস, শিরীন নাইম পুনম ও নইম হাসান জোয়ারদারসহ আরও অনেকে।

গ্রুপিংয়ের পিছিয়ে নেই বিএনপিও। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান শরীফ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ছিলেন। দলের তৃণমূল এবং বিভাজিত নেতাদের এক কাতারে আনতে করে যাচ্ছেন পরিশ্রম। বিভিন্ন কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
এ ছাড়া প্রচারে না থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর ভাই ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াহেদুজ্জামান বুলা এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মো. কামরুজ্জামান দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে গুঞ্জন রয়েছে।
জাতীয় পার্টির অবস্থান ভালো না হলেও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সোহরাব হোসেন মনোনয়নপ্রত্যাশী। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক প্রার্থী হতে পারেন। গতবারের চাইতে সাংগঠনিকভাবে দলটি গোপনে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানীখ্যাত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে সদর উপজেলার তিতুদহ, বেগমপুর, গড়াইটুপি ও নেহালপুর বাদে ৬টি এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি অর্থাৎ ২১টি ইউনিয়ন, ২টি পৌরসভা ও ২টি থানা নিয়ে গঠিত। এ নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার ৫ লাখ ৭ হাজার ২৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৭ জন এবং মহিলা ২ লাখ ৫১ হাজার ৭০৪ জন।
চুয়াডাঙ্গা-২: আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমানে সমান