বাংলাদেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ট লু’র চিঠিকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে আগামী নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা স্থগিত রাখতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
তবে, দলের মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতারা কারাগারে থাকায় সংলাপ নিয়ে সংশয়ও আছে দলটির ভেতরে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে বিনা শর্তে সংলাপ চায় যুক্তরাষ্ট্র। আর সে লক্ষ্যে তিনটি রাজনৈতিক দলকে চিঠি লিখেছেন ডোনাল্ড লু।
ওই চিঠি সোমবার জাতীয় পার্টির কাছে পৌঁছে দেন ঢাকায় মার্কিন দূত পিটার হাস। পরপরই মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলে, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরতে তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।
ডেনাল্ড লু’র দেওয়া ওই চিঠি বিএনপির পক্ষে গ্রহণ করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ।
বিএনপির বক্তব্য, জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ গণতান্ত্রিক বিশ্বের উদ্যেগকে স্বাগত জানায় তারা। এমন সময় তফশিল এবং সলাপের ইস্যু যখন দলের নীতি নির্ধারনী প্রধান নেতা মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ চার জন ভাইস চেয়ারম্যান, দুজন যুগ্ম মহাসচিব এবং দুজন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ২৯৪ মামলায় কারাগারে নেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ২৯৭ জনকে ।
বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল বলেন, ওই চিঠি তারা গ্রহণ করেছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে যথাসময়ে জানাবে।
বিএনপির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে তাগিদ দিচ্ছেন তা কীভাবে সম্ভব যখন বিএনপির প্রায় সব সিনিয়র নেতা কারাগারে। অন্যরা গ্রেপ্তার এড়াতে লুকিয়ে রয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা কঠোর ভাষায় হুশিয়ার করতে চাই। এই তফসিল নাটক বন্ধ করুন। পদত্যাগ করুন। তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে ক্ষমতা দিন। দলদাস নির্বাচন কমিশন বাতিল করতে হবে।
সরকার পতনের দাবিতে বুধবার ভোর ছয়টা থেকে শুক্রবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত শুরু হচ্ছে পঞ্চম দফার ৪৮ ঘন্টার অবরোধ ।
এদিকে নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ সরে গেলেও পাশের ভবনের সামনে দেখা গেছে।