নতুন খেলা শুরু, আর ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবেন না: ফখরুল

কিছু রাজনৈতিক দলের সাধারণ নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবিকে ‘নতুন খেলা শুরু হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে- সরকার জনগণের না হলে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। এটা নিয়ে নৈরাজ্য হয়। জাতীয়র আগে যার স্থানীয় নির্বাচন চান তাদের অনুরোধ করে বলতে চাই, দেশকে আর ধ্বংস, নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেবেন না।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ধামরাই উপজেলার যাত্রাবাড়ি মাঠে ঢাকা জেলা বিএনপির এ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

বর্তমান সরকারকে এ দেশের ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দলগুলো সবাই মিলেই ক্ষমতায় বসিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল, যেসব জায়গায় সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো শেষ করে বর্তমান সরকার দ্রুত সবার ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু এখন নতুন খেলা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু কিছু লোক নির্বাচনকে পেছাতে চায়, তাতে ক্ষমতায় তারা বেশিদিন থাকতে পারবে। নতুন দল করতে পারবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির অনেক প্রত্যাশা ছিলো সরকার অতি দ্রুত নির্বাচন দিয়ে মানুষের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে। কেননা, যারা আন্দোলন করে সরকার পতন করেছে, তারা কেউ আজও ভোট দিতে পারেনি। 

সরকার কী জেনেশুনে গৃহযুদ্ধের দিকে যেতে চান প্রশ্ন রেখে ফখরুল বলেন, দেশকে আর ধ্বংস, নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেবেন না।  অনেকে বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। বিএনপি যে ১৫ বছর ত্যাগ স্বীকার করলো, তা সবাই ভুলে যাচ্ছে। বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলে কোনো লাভ হবে না।

ফখরুল আরও বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৮৩টি মামলা দেয়া হয়েছিল, যেন তিনি দেশে ফিরতে না পারেন। এখনও মামলা শেষ হয়নি। এখনও কোর্টে যেতে হয় বিএনপিকে। এমন তো কথা ছিল না।

রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর শেখ হাসিনার অন্যায়ের ফল বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, কিছুদিন আগে চোখে পড়ল, ফ্যাসিস্ট হাসিনা কান্না করতে করতে বলছে, “আমার বাবার বাড়িটা ৩২ নম্বরে আমরা দিয়েছিলাম, জাদুঘর করেছিলাম, সেটাকে পর্যন্ত ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন, কী আমার অপরাধ।” অপরাধ? এটাই তো আপনি বুঝতে পারছেন না হাসিনা। আপনার কী অপরাধ? আপনি একটা জাতিকে ধ্বংসের চক্রান্ত করেছেন। আপনি একটা জাতির অধিকারকে ধ্বংস করেছেন। আপনি দেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন। ধর্মকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন। ইতিহাসকে বিকৃত করেছেন।

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ (টিটু) ও নজরুল ইসলাম (আজাদ)।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহপরিবার কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাবু), বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস (মুরাদ), সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান মোহন প্রমুখ।