জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আদর্শিক বিচ্যুতি ও পুরোনো ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার অংশীজনদের সঙ্গে আপস করার অভিযোগ এনে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ভিডিও বার্তায় মুরসালীন বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে এনসিপির আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল- অর্থাৎ নতুন সংবিধান এবং নতুন ‘রিপাবলিক’ বা নয়া বন্দোবস্তের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ডিকলোনালাইজ’ (উপনিবেশমুক্ত) করা-সেখান থেকে দলটি বিচ্যুত হয়েছে।
তার মতে, ১৮৫৮ সাল থেকে চলে আসা ব্রিটিশদের তৈরি ‘জুডিও খ্রিস্টান ইডিওলজি’ বা শাসক-শোষক ব্যবস্থা আজও বাংলাদেশে বহাল আছে, যার সর্বশেষ সংস্করণ ছিল গত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসন। এনসিপি এই ব্যবস্থা ভাঙার কথা বললেও বাস্তবে তারা পুরোনো ব্যবস্থার শক্তিগুলোর সঙ্গে আপসে লিপ্ত হয়েছে।
মুরসালীন আক্ষেপ করে বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যারা সবচাইতে বেশি জীবন দিল, সেই শ্রমিকদের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আনা সম্ভব হয়নি। এছাড়া অভ্যুত্থানের বীর নারীদের সচেতনভাবে পর্দার অন্তরালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন নারীদের কণ্ঠকে পর্দার আড়ালে পাঠিয়ে দেওয়া হলো? এনসিপির এখানে সাহসী ভূমিকা রাখার কথা ছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।
জুলাই ঘোষণা এবং দলের সনদের বিষয়ে অভিযোগ তুলে মুরসালীন বলেন, ঘোষণাপত্র রচনার সময় থেকেই এটি একটি ‘কম্প্রোমাইজড ডকুমেন্ট’ বা আপসের দলিল ছিল। আমরা বলেছিলাম সনদে বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না, কিন্তু এনসিপি সেখানেও ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে। জনগণকে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পুরোনো ব্যবস্থার অংশীজনদের সাথে আপস করছে।
নিজের পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে মুরসালীন জানান, তার দাদাজান একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি খান মোহাম্মদ মইনুদ্দিন কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করে জেল খেটেছেন। তার বাবা এবং তিনি নিজেও দেড় দশক ধরে সাংবাদিকতা ও প্রকাশনার মাধ্যমে এই ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।
সবশেষে তিনি ঘোষণা দেন, আমি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করছি, কিন্তু রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছি না। এই ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা ভাঙার লড়াই দীর্ঘ। আমি আবারও জনতার কাতারে দাঁড়াচ্ছি এবং রাজপথেই সবার সাথে দেখা হবে।