জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর অঞ্চলের সমন্বয়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পদত্যাগপত্রটি প্রকাশ করেন। ফরিদপুর জেলা মহিলা লীগের সভাপতির মেয়ে নীলিমা দোলার এই সিদ্ধান্তকে দলটির অভ্যন্তরীণ সংকটের বড় বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পদত্যাগপত্রে নীলিমা দোলা উল্লেখ করেন, এনসিপি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘মধ্যপন্থী’ রাজনীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে সম্পূর্ণভাবে ‘ডানপন্থী’ ঘরানায় প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। দলটি জুলাই পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে বলে আশা করেছিলাম, কিন্তু তারা এখন নির্দিষ্ট একটি ধারার রাজনীতিকেই পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন এই নেত্রী। তিনি একে কেবল ‘কৌশলগত জোট’ মানতে নারাজ। তার মতে, নেতা-কর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে এই জোট করা হয়েছে এবং মনোনয়নের নামে ‘তীব্র প্রতারণা’ করা হয়েছে।
দলের ভেতরে যারা পদত্যাগকারীদের ‘বামপন্থী’ বলে ফ্রেমিং করছেন, তাকে একটি গেম প্ল্যান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বামপন্থীরা বেরিয়ে যাচ্ছে কেন এই পাল্টা প্রশ্ন আমি করতে চাই। তাহলে কী যারা রয়ে গেল সবাই ডানপন্থী? আপনারা না একটা সেন্ট্রিস্ট (মধ্যপন্থী) দল?
নীলিমা দোলা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রান্তিক মানুষ, নারী, শিশু, শ্রমিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চলা নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে এনসিপির মতো ‘তারুণ্যনির্ভর’ দলকে কয়েক দিন করে ভাবতে হয়। এমন দায়সারা প্রতিবাদ তার রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জুলাই অভ্যুত্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব হয়নি। অথচ এনসিপি এই অভ্যুত্থানকে ধর্মীয় মোড়কে ভরে আওয়ামী বয়ানকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে রয়েছে। হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এমন ‘দফারফার’ রাজনীতি বেমানান।
এনসিপির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা গত কয়েক মাসে ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ হয়েছে দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, আসন্ন কঠিন সময়ে জনতা এর সমুচিত জবাব দেবে। নিজের ক্যারিয়ার ও প্রগতিশীল মানসিকতা এতদিন এনসিপিকে শক্তি জুগিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে ধরে রাখার সামর্থ্য দলটির আর নেই।
উল্লেখ্য, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য গঠনের পর থেকে এনসিপির একাধিক নারী নেত্রী পদত্যাগ করেছেন, যার ধারাবাহিকতায় এবার ফরিদপুর অঞ্চলের এই শীর্ষ নেত্রীও দল ছাড়লেন।