মন সায় দেয় নি, পরিবার মানাতে পারেনি, বিসিবি সমস্যা সমাধানে সফল হয়নি। তবে একজন ঠিকই পেরেছেন দেশের তামিম ইকবালকে তার যোগ্য জায়গায় ফেরাতে।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবসরের দ্বিতীয় দিনেই দলে ফিরিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ককে। তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী ভরসা হয়ে কাটিয়েছেন সব সঙ্কট।
শ্বাসরুদ্ধকর ২৯ ঘণ্টা, তামিমের হঠাৎ অবসর, সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ নাজমুল হাসান পাপন, প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরক্ত নতুন অধিনায়ক লিটন।
একটা সিরিজের মাঝপথে হঠাৎই এলোমেলো দেশের সাজানো ক্রিকেট। তবে ওই যে শেষ ভরসা একজন আছেন, যিনি সবাইকে আগলে রাখতে জানেন।
এবারও সেই মানুষটাই এগিয়ে এলেন, দেশের সেরা তারকাকে তার জায়গায় ফেরালেন। প্রমাণ করলেন তিনি সবার অভিভাবক, খেলাপাগল একটা জাতির সবচেয়ে বড় সমর্থক।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু তামিমকে ফেরানো নয়, এর আগেও ক্রিকেটের নানা সঙ্কটে বারবার এগিয়ে এসেছেন এই ক্রীড়া পাগল মানুষটা। চলুন দেখে আসি-সেসব ঘটনা।
বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ নান্নু, ফেরালেন প্রধানমন্ত্রী
১৯৯৯। প্রথমবারের মতো আইসিসি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করে বাংলাদেশ, চারদিকে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। তবে বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল ঘোষণা হতেই শুরু হয় বিতর্ক।
সাবের হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিসিবি যে ৩০ জনের স্কোয়াডে দেয় তাতে বাদ দেয়া হয় সে সময়ের তারকা ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে।
দেশবাসীর উত্তাল ক্ষোভে তখন এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার হস্তক্ষেপেই দলে ঢোকেন নান্নু। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে তিনি করেন সর্বোচ্চ রান।
দলে হস্তক্ষেপ, প্রধান নির্বাচক আকরাম খানের পদত্যাগ
২০১২। এশিয়া কাপের আগে হঠাতই মুস্তাফা কামালের বোর্ড থেকে পদত্যাগ করে বসেন প্রধান নির্বাচক আকরাম খান। দল গঠনে বিসিবির অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ছেড়ে দেন দায়িত্ব।
তিনি বলেছেন, কখনোই তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেননি। তার কাজে সব সময়েই বোর্ডের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। বাদ দেয়া হয় তামিম ইকবালকে।
সেবার উত্তপ্ত পরিস্থিতি দক্ষ হাতে সামাল দেন প্রধানমন্ত্রী। আকরাম খানকে তার দায়িত্বে ফেরান। নিশ্চিত করেন বিসিবির পেশাদারিত্ব।
ক্রিকেটারদের আন্দোলন, প্রধানমন্ত্রীর হতক্ষেপে নিরসন
২০১৯, ২১ অক্টোবর। হঠাৎই দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ সাকিব, তামিম, রিয়াদ, মুশফিকরা তুলে ধরেন গণমাধ্যমে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘোষণা দেয়া হয় সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের। গোটা পরিস্থিতি যখন বিসিবির নাগালের বাইরে, তখন মাশরাফিকে ডেকে পুরো ঘটনা শোনেন শেখ হাসিনা।
তার নির্দেশনা আর মাশরাফির মধ্যস্থতায় চারদিনের মাথায় শেষ হয় আন্দোলন। ক্রিকেটারদের সব দাবি মেনে সমঝোতা করে বিসিবি।
এভাবে শুধু ক্রিকেটের সঙ্কটে আস্থার প্রতীক হয়েই থাকেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যে কোনো অর্জনে, উদযাপনে তিনি দুহাত বাড়িয়ে আপন করে নিয়েছেন সবাইকে।
আরও পড়ুন: টাইগার ক্রিকেটের কলকাঠি নাড়ছে এক অজানা ভিলেন!
বারবার প্রমাণ করেছেন খেলা তার ধমণীতে মিশে আছে। যার প্রবাহে জেগে ওঠে গোটা দেশ, মেতে হঠে বিজয়ের আনন্দে।
একাত্তর/এসি