মেসির শেষ ঠিকানা কি সৌদি প্রো লিগ?

যেখানে লিওনেল মেসির পা পরে সেখানেই সোনা ফলে। ইন্টার মিয়ামির ক্ষেত্রেও ঘটেছে ঠিক তেমনটা। মেজর লিগ সকারের অখ্যাত ক্লাবটাই ক্রমশই হয়ে উঠছে গ্লোবাল ফুটবল ব্র্যান্ড। মেসিকে সাপোর্ট করার ক্ষেত্রে যুক্তির ধার ধারে না অনেকে। 

লিওকে বড় দেখাতে ভক্তকুলের একটা বড় অংশ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সৌদি প্রো লিগের মান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তুলেছে প্রশ্ন। অনেকেই 'খেজুর লিগ' আর 'উট লিগ' বলেছেন সি আর সেভেনের খেলা লিগকে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন অচিরেই লিওনেল মেসির ঠিকানা হবে সৌদি প্রো লিগ।

বাইশের কাতার বিশ্বকাপেই হয়ে গেছে মীমাংসা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সাথে লিওনেল মেসির দ্বৈরথ যেটা আটকে রেখেছিল গোটা একটা সময় সেই তর্ক বিস্ফোরিত বেলুনের মতো দম ফুরিয়েছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নয়, লিওনেল মেসি এই সময়ের সেরা।

শুধু তাই নয়, সর্বকালের সেরা। সি আর সেভেনের সাথে এল এম টেনের পার্থক্যটা যে এখন আর তুলনার যোগ্য নয়, তার অন্যতম বড় রেফারেন্স সাউদি প্রো লিগ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার, করিম বেনজমা সব হাইপ্রোফাইল ফুটবলারের জন্য সৌদি প্রো লিগের বাজেটে বছরে ১ বিলিয়ন ডলার। সেখানে লিওনেল মেসি শুধুমাত্র একজন ফুটবলারের জন্য প্রস্তাব ছিল ১.৬ বিলিয়ন ডলারের।

আর্জেন্টাইন জাদুকরকে বড়-অবিশ্বাস্য অংকের প্রস্তাব নিছক কোন গল্প নয়। প্রো লিগের ক্লাব আল হিলালে খেলার জন্য বছরে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রোপোজাল পাওয়ার খবর, ফলাও করে প্রকাশ হয়েছে বড় বড় গণমাধ্যম। টাকার চাইতে নিজের ভালো লাগা বড়, যার পক্ষে মানা করা সম্ভব ছিল এই ধরনের অবিশ্বাস্য প্রস্তাব এই পৃথিবীতে মেসিই হয়তো কেবল একমাত্র ।

আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম এবং মেসি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিশ্লেষণ, রোনালদোর চাইতে বছর দুয়েকের ছোট এল এম টেন। কাজেই তার কাছে সময়ও আছে বেশ। কিছুটা সময় আমেরিকায় খেলে, লাইফটা চুটিয়ে উপভোগ করে যাওয়া যাবে সৌদি প্রো লিগে, ভাবনাটা এ রকমই। 

মানা করে দেওয়াতে প্রো লিগের দরজা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে ব্যাপারটা এমনও তো নয়। সৌদি ফুটবল ক্লাবগুলোর দায়িত্বশীলরা বিভিন্ন সোমোয় জানিয়েছেন, অব্যাহত রাখবেন টাকার বস্তা নিয়ে অপেক্ষা। খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, এমনিতে লিওনেল মেসি সৌদি আরব দেশটার পর্যটন শিল্পের দূতও বটে। 

সৌদি আরবকে ঘিরে ভবিষ্যতের যে রকম পরিকল্পনা, যে ধরনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা-শপথ দেশটার শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের চাওয়াকে আমলে রাখতেই হবে। রোনালদোর মতো মেসিও সৌদি আরবে খেলবেন, এটা শুধু ফুটবল নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভিশনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।