ভোরে শুরু মেসি ও আর্জেন্টিনার কোপা মিশন

এ যেন মধুর যন্ত্রণা! কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখবে ক্রীড়া প্রেমীরা। একদিকে চলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ আর এবারে শুরু হচ্ছে কোপা আমেরিকার মহারণ। উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ প্রথমবার টুর্নামেন্ট খেলতে আসা কানাডা। আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচ। 

শ্রাবণের মেঘের মতো সব স্মৃতিগুলো যেন ভিড় করছে একের পর এক। শিরোপা নেই ২৮ বছর, বিশ্বকাপ নেই ৩৬ বছর। বিশ্বাস সবার, মেসি নাকি খুলবে সেই গেরো। কবে আর কবে? কিংবা আদৌ হবে? 

প্রশ্নে ঘুরপাক চারপাশ। অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকাতেই খুলে গেলো সৌভাগ্যের দরজা। এরপর আর্জেন্টিনার গায়ে লাগলো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ট্যাগ। আর যে লিওকে অপয়া বলতেও ছাড়েনি কেউ সেই তারাই আজ লিওকে বসিয়েছে ঈশ্বরের আসনে। সময় এভাবেই বদলায়।

ক্রিকেট যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেছে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে, তবে সমর্থকদের নজর আবারো ঠেকেছে সেই ইউএসতেই। ওখানেই তো এবার জমেছে কোপা আমেরিকার মহাযজ্ঞ। সময়ের চাকা ঘুরে আবারো কোপা আমেরিকার মহারণ। ওপেনিং ডে'তেই মাঠে নামছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামের মেসির প্রতিপক্ষ নিউ কামার কানাডা। 

বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ প্রথমবার টুর্নামেন্ট খেলতে আসা কানাডা।

দু’দলের ফারাকটা আকাশ পাতাল। যেখানে আর্জেন্টিনার ক্যাবিনেটে ১৫ খানা ট্রফি সেখানে কিনা এই টুর্নামেন্টে কানাডার এটাই প্রথম অ্যাপিয়ারেন্স। চলতি বছরে প্রথমবার দু’দলই খেলতে নামছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ২০১০ সালে মারাদোনার আমলে প্রীতি ম্যাচে শেষবার কানাডাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিলো আলবিসেলেস্তেরা। সেবার পাঁচ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছিলো আর্জেন্টিনা। তবে কোপা আমেরিকায় এই প্রথম।

বরাবরের মতো দুরন্ত গতিতে ছুটছে আর্জেন্টিনার ট্রেন। কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের পর খেলা ১৮ ম্যাচের ১৭টিতেই জিতেছে লিওনেল স্কালোনির দল। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে হেরেছে শুধু উরুগুয়ের কাছে। অস্বস্তি কাটিয়ে স্বস্তি নিয়ে মাঠে ফিরেছেন মেসি। 

আমেরিকার মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়েও দারুণ ফর্মে তিনি। শেষ ১২ ম্যাচে স্কোরশিটে নাম তুলেছেন ১২ বার। ওপেনিং ডে’তে তাই মেসির পাশে হুলিয়ান আলভারেজ, গঞ্জালেজকে ফ্রন্টলাইনে রেখে কানাডার বিপক্ষে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই নামার পরিকল্পনা স্কালোনির।

এদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপদে ফেলতে কানাডার দলে রয়েছেন বায়ার্ন স্টার আলফোনসো ডেভিস। সাথে অ্যালিস্টার জনস্টন। এবারের কোপাতে হয়তো ফুটবল দুনিয়া দেখবে বিশ্বজয়ী লিওনেল মেসির শেষ ম্যাজিক্যাল শো। আর সেই ম্যাজিক দেখার অপেক্ষায় মেসির লাখো কোটি ভক্তকুল।  

জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

কোপা আমেরিকার ৪৮তম আসরের উদ্বোধনী নিয়েও থাকছে নানা আয়োজন। ম্যাচের আগে মার্সিডিস বেঞ্জ স্টেডিয়ামে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পারফর্ম করবেন ওই অঞ্চলের চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের তারকারা। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কলম্বিয়ার ফেইডের কনসার্ট। 

ফেইড বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একজন গায়ক, সুরকার এবং গীতিকার। দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের বড় বড় ইভেন্টে তার চাহিদা অনেক। তাই তার গান দিয়েই আসর শুরু করবে কনমেবল। পারফর্ম করবেন জনপ্রিয় গায়িকা শাকিরা। কারণ, ফুটবলের আসর মানেই শাকিরা। 

মূলত কোপা আমেরিকায় অংশ নেয় দক্ষিণ আমেরিকার ১০ থেকে ১২টি দেশ। খেলায় হয় এই অঞ্চলের দেশগুলোতেই। তবে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে এই টুর্নামেন্ট দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। তাই এবারের আসরে যুক্ত হয়েছে কনকাকাফের ছয়টি দেশ। 

'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' বিশ্বকাপের পরই লাতিন আমেরিকার এই মহাদেশীয় লড়াইকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেওয়া হয়। এবার দল বাড়ার পাশাপাশি শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ের অর্থ পুরস্কারও বেড়েছে। দলগুলো সব মিলিয়ে ৭২ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৪৬ কোটি টাকা) পাবে। 

এর মধ্যে কেবল অংশগ্রহণের জন্যই প্রতিটি দল ২৩ কোটি টাকা করে পাচ্ছে। অর্থাৎ, কোনো ম্যাচ না জিতলেও ২৩ কোটি টাকা করে পাচ্ছে প্রতিটি দল। অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়ন দল ১৬ মিলিয়ন ডলার বা ১৮৮ কোটি টাকা পাবে। আর রানার্সআপ দল ছয় মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০ কোটি টাকা) পাবে।