ছুটির দিনে মেঘলা পরিবেশেও ‘টক অব দ্য টাউন’ বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম নন্দিত-নিন্দিত তারকা সাকিব আল হাসান। একদিন আগেই, সাকিবের দেশে না ফেরার খবরের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াড থেকে তার নাম বাদ দেয়ার মিরপুরে বিক্ষোভ ছিলো আলোচনার কেন্দ্রে।
পরের দিনও সেই মিরপুর স্টেডিয়াম আবারও আলোচনায়। সাকিব আল হাসানকে দলে ফেরাতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন তার ভক্তরা। শুক্রবার বৃষ্টিভেজা বিকেলে কয়েকশ ক্রিকেটপ্রেমী ব্যানার নিয়ে মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে জড়ো হয়। বিক্ষোভ থেকে বিসিবিকে আল্টিমেটামও দেয় বিক্ষোভকারীরা।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তারা মাঠ থেকেই সাকিবকে বিদায় দিতে চান। ভক্তরা বলছেন, সাকিব যেন এই মিরপুর স্টেডিয়াম থেকে বিদায় নিতে পারেন। ১৭ বছর ধরে উনি দেশকে সেবা দিয়েছেন। আমরা তাকে মাঠ থেকে বিদায় দিতে চাই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাকিবকে আমরা দলে চাই।
মিরপুর টেস্ট খেলে অবসর নিতে চেয়েছিলেন সাকিব। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আসার পথেই ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুবাই আসার পর ঢাকাগামী ফ্লাইট বাতিল করতে হয় তাকে দেশে সাকিববিরোধী বিক্ষোভে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠায়।
আরব আমিরাতে পৌঁছে সাকিব জানতে পারেন, নিরাপত্তার কারণে তাকে দেশে ফিরতে বারণ করেছে সরকার। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে ঝুঁকি নেননি সাকিবও। পরে, বৃহস্পতিবার বিকেলে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও সাকিবের দেশে না ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগেই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাকিববিরোধী বিক্ষোভ হয় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মূল ফটকে। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে স্মারকলিপি দেওয়া হয় সাকিবকে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য এবং না দিলে ম্যাচের দিন ‘মিরপুর ব্লকেড’ করার ঘোষণা ছিলো সেখানে।
এরপর শুক্রবার দেখা গেছে উল্টো চিত্র। সাকিবকে মিরপুর টেস্টের দল থেকে বাদ দিতেই ফুঁসে উঠেছেন তার ভক্ত-সমর্থকরা। মিরপুর স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গেটে সাকিবের ভক্ত-সমর্থকরা তাকে দলে ফেরাতে বিক্ষোভ করেছেন। তারা বিসিবির কাছে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন।
আগামী ২১ অক্টোবর থেকে মিরপুরে শুরু হবে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের প্রথম টেস্ট। এই ম্যাচ দিয়েই টেস্টকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন সাকিব। তবে তিনি দেশে ফিরতে না পারায় তার বদলে দলে নেওয়া হয়েছে স্পিনার হাসান মুরাদকে।
বিসিবির পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছে সাকিব প্রথম টেস্টের জন্য ‘অ্যাভেইলেবল’ নয়। সে তার টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ দিকে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু অভিজ্ঞতা ব্যাট ও বল হাতে তার যে তার সামর্থ্যের কোনো বিকল্প নেই আমাদের।
মুরাদকে লিপু বলেন, হাসান মুরাদ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেছে। আমাদের সিস্টেমের মধ্যেও সে ছিল। হাসান মুরাদ আমাদের বোলিংয়ে ভারসাম্য আনবে, বিশেষত ঘরের মাটিতে। আমাদের বিশ্বাস তার এই পর্যায়ে খেলার মতো সম্ভাবনা আছে।