বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে বেলজিয়াম। লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইরানের সঙ্গে গোলশূন্য সমতায় শেষ হওয়ায় রেড ডেভিলসদের নকআউট পর্বে ওঠার লড়াই আরও কঠিন হলো। ম্যাচের শেষভাগে একজন খেলোয়াড় কম নিয়েও মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইউরোপের দলটিকে।
কাগজে-কলমে শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামলেও কেভিন ডি ব্রুইনা ও রোমেলো লুকাকুরা নিজেদের সেরা খেলাটা দেখাতে পারেননি। বরং বেশ কয়েকবার ইরানের দ্রুত আক্রমণে চাপে পড়ে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ।
প্রথমার্ধেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ইরান। মেহদি তারেমি ফ্রি-কিক থেকে বল জালে পাঠালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। পরে দ্বিতীয়ার্ধে ন্যাথান এনগয় সরাসরি লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বেলজিয়াম।
দুই ম্যাচে দুই পয়েন্ট নিয়ে এখন গ্রুপ-জি থেকে বিদায়ের শঙ্কায় রয়েছে বেলজিয়াম। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে ইরান শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে মিশরের।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল বেশি ছিল বেলজিয়ামের কাছে। তবে ইরানের ঘন রক্ষণ ভাঙতে তারা বারবার ব্যর্থ হয়। লুকাকুর প্রথমার্ধের একটি হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বিপরীতে ইরান তুলনামূলক কম সুযোগ পেলেও সেগুলো ছিল বেশি বিপজ্জনক। হোসেইন কানানির শট এবং তারেমির কয়েকটি প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তন এনে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া। ডি ব্রুইনার তৈরি করা সুযোগ থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের শট ইরানের গোলরক্ষক রুখে দেন। পরে হান্স ভানাকেনও একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় এনগয়ের লাল কার্ডে। একটি ভুল ব্যাকপাসের পর তারেমিকে থামাতে গিয়ে তিনি হাত ব্যবহার করলে রেফারি তাকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। বাকি সময় ইরান বাড়তি খেলোয়াড়ের সুবিধা পেলেও শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় দুই দলই এক পয়েন্ট করে ভাগাভাগি করে নেয়।