২০২৬ বিশ্বকাপের জে-গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে সোমবার ডালাসের মাঠে নামছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে উড়ন্ত সূচনা করা আলবিসেলেস্তেরা এবার অস্ট্রিয়াকে হারালেই নিশ্চিত করে ফেলবে শেষ ষোলোর টিকিট। তবে অস্ট্রিয়াও কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়; নিজেদের প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে তারা। ফলে দুই জয়ী দলের এই লড়াই যে বেশ চড়া উত্তাপ ছড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১১টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, টেন স্পোর্টস এবং সময় টেলিভিশন।

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে আরও একবার সব হেডলাইন কেড়ে নিয়েছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি বুঝিয়ে দিয়েছেন, মঞ্চ যত বড়ই হোক না কেন, ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে তিনি এখনও একাই একশ’। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ওই তিন গোলের পর মেসি এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভাঙা থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে আছেন। আর মাত্র একটি গোল করলেই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন রূপকথা লিখবেন এলএম টেন। তবে, ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে মেসির মূল পাখির চোখ এখন চার বছর আগে কাতারে জেতা সোনালী ট্রফিটা অক্ষুণ্ন রাখার দিকে।

অন্যদিকে রালফ রাংনিকের অধীনে অস্ট্রিয়া দল হিসেবে এখন বেশ সুসংগঠিত। প্রথম ম্যাচে জর্ডানের বিরুদ্ধে তাদের বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছিল এবং ম্যাচের শেষ দিকে গিয়ে তারা জয় নিশ্চিত করে। আলজেরিয়ার চেয়ে অস্ট্রিয়া যে আর্জেন্টিনাকে অনেক বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলবে, তা ভালো করেই জানেন স্কালোনি। তবে মেসিকে কেন্দ্র করেই সাজানো হচ্ছে আর্জেন্টিনার মূল ছক।
অধিনায়ককে বল জোগানোর গুরুদায়িত্ব থাকবে রদ্রিগো ডি পল ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ এবং আলমাদার শক্তিশালী মিডফিল্ড লাইনের ওপর। রক্ষণে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজ জুটির ওপরই ভরসা রাখছে দল। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে গঞ্জালো মন্টিয়েল ভুগতে থাকায় রাইট-ব্যাক হিসেবে নাহুয়েল মোলিনা শুরু করবেন এবং আক্রমণে মেসির সঙ্গী হচ্ছেন লাউতারো মার্টিনেজ।

অস্ট্রিয়া শিবিরে কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিফেন্ডার স্টিফান পশের চোয়ালের ইনজুরি। সতর্কতাবশত তাকে আজ বিশ্রামে রাখা হতে পারে এবং তেমনটা হলে কনরাড লাইমার রাইট-ব্যাকের ভূমিকায় চলে আসতে পারেন। মাঝমাঠে নিকোলাস সিওয়াল্ড এবং জাভার শ্লেগার নিজেদের জায়গা ধরে রাখছেন। আক্রমণভাগে জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তুলে নেওয়া সাশা কালাদজিচ ম্যাচের শুরু থেকে সুযোগ পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় আছে, কারণ বেঞ্চ থেকে এসে গোল করা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার মার্কো আরনাউটোভিচ আজ শুরুর একাদশে ঢোকার জন্য জোর দাবি জানিয়ে রেখেছেন।

পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ডালাসের এই লড়াইয়ের আগে দুই দলই দারুণ কিছু রেকর্ডের পিঠে সওয়ার হয়ে আছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আর্জেন্টিনা তাদের শেষ ৮টি ম্যাচের প্রতিটিতেই জয়ের স্বাদ পেয়েছে। বিশ্বকাপে টানা ৭টি ম্যাচ জেতার এক দুর্দান্ত রেকর্ড এখন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পকেটে।
১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে অস্ট্রিয়া। অস্ট্রিয়া কতটা রক্ষণাত্মক দল, তা বোঝা যায় একটি তথ্যে, নিজেদের খেলা শেষ ১৮টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে তারা একের বেশি গোল হজম করেছে। ইতিহাস বলছে, অস্ট্রিয়া সর্বশেষ ১৯৮২ সালে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছিল। এরপর দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে তারা এই মঞ্চের শেষ ষোলোর মুখ দেখেনি।

দুই দলের অতীত দেখা হয়েছে মাত্র দুইবার। ১৯৮০ সালের প্রথম দেখায় আর্জেন্টিনা ৫-১ গোলে অস্ট্রিয়াকে বিধ্বস্ত করলেও, ১৯৯০ সালের শেষ ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।
রাংনিকের কৌশলে অস্ট্রিয়া রক্ষণভাগে পার্ক-বাস বা কড়া ডিফেন্সের দেয়াল তুলে আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে আর্জেন্টিনার স্কোয়াডের গভীরতা, বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি এবং সর্বোপরি লিওনেল মেসির এই অতিমানবীয় ফর্মের সামনে সেই দেয়াল কতক্ষণ টিকবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন আছে। অস্ট্রিয়া তাদের জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণভাগের ধার ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ফুটবল পণ্ডিতদের কড়া প্রেডিকশন বলছে, অস্ট্রিয়ার রক্ষণ ভেঙে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়বে এবং রাজকীয়ভাবে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করবে।
