বিশ্বকাপে সমালোচনার জবাবটা মাঠেই দিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে শুধু পর্তুগালকে বড় জয়ই উপহার দেননি, গড়েছেন নতুন ইতিহাসও। বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
মঙ্গলবার হিউস্টোনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রোনালদোর দুই গোলের পাশাপাশি দলের আরও তিনটি গোলে উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছে পর্তুগাল। এই জয়ে নকআউট পর্বের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল রবার্তো মার্টিনেজের দল।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের খাতা খোলেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। হুয়াও ক্যান্সেলোর বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশে জালে বল জড়িয়ে ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তি গড়েন তিনি। গোলের পর তার পরিচিত উদযাপনে মেতে ওঠেন গ্যালারিভর্তি পর্তুগিজ সমর্থকেরা।
১৭ মিনিটে নুনো মেনডেস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আবারও গোলের দেখা পান রোনালদো। দারুণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেও উঠে যান রোনালদো। ১০ গোল নিয়ে তিনি ছাড়িয়ে যান কিংবদন্তি ইউসেবিওকে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের মালিক রোনালদো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে গোল করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সেই ম্যাচে কয়েকটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ফলে তাকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে।
অন্যদিকে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড ও হ্যারি কেনদের দুর্দান্ত শুরুর মাঝে রোনালদোর গোলশূন্যতা আরও বেশি আলোচনায় আসে। তবে কোচ মার্টিনেজ শুরু থেকেই তার অধিনায়কের ওপর আস্থা রেখেছিলেন।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোনালদো। তৃতীয় মিনিটে মেনডেসের ক্রসে অল্পের জন্য বল ছুঁতে না পারলেও কয়েক মিনিট পরই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যান। এরপর পুরো ম্যাচজুড়েই ছিলেন আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে।
২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালিয়ান কিংবদন্তি ফ্যাবিও ক্যানাভারোর অধীনে খেলা উজবেকিস্তান কিছু সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। আজিজজন গ্যানিয়েভের একটি গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়।
রোনালদো আরও একটি গোলের সম্ভাবনা তৈরি করলেও গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতোভ তা রুখে দেন। তবে সেই আক্রমণ থেকেই পরে পর্তুগালের চতুর্থ গোল আসে, যা আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা রাফায়েল লিয়াও শক্তিশালী শটে দলের পঞ্চম গোলটি করে বড় জয় নিশ্চিত করেন।
গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের শেষ ম্যাচ আগামী শনিবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে। কলম্বিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছিল।