নাটকীয় এক লড়াই শেষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে পর্তুগাল। টরন্টোয় অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড গনসালো রামোসের গোলে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে রবার্তো মার্টিনেজের দল।
জয়ের পর আবেগঘন এক মুহূর্তের জন্ম দেন পর্তুগিজ ফুটবলাররা। প্রয়াত সতীর্থ দিয়োগো জোটার স্মরণে জাতীয় দলের ২১ নম্বর জার্সি উঁচিয়ে ধরে জয় উৎসর্গ করেন তারা। গত বছর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন লিভারপুল ও পর্তুগালের এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, বেশিরভাগ সময়ই খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল ক্রোয়েশিয়ার হাতে। বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তারা। উল্টো শেষ মুহূর্তে এক ভুলের খেসারত দিয়ে বিদায় নিতে হয়েছে লুকা মড্রিচদের।
প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল সতর্ক। মাঝমাঠের লড়াইয়ে সময় কেটেছে বেশি, ফলে পরিষ্কার গোলের সুযোগও তৈরি হয়েছে হাতে গোনা। গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর ম্যাচে প্রাণ ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ইভান পেরিসিচ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এক মিনিট পরই লম্বা পাস ধরে বল জালে পাঠান ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। তবে অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।
তবে সমতা ফিরতে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি পর্তুগালকে। বক্সের ভেতরে রেনাতো ভেইগাকে ফাউল করলে ভিএআরের পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান রোনাল্ডো।
এই গোলটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রোনাল্ডোর প্রথম। পাশাপাশি বিশ্বকাপের নকআউটে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা খেলোয়াড় হিসেবেও নতুন রেকর্ড গড়েন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচ আরও জমে ওঠে। মাতেও কোভাচিচের নিচু শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। অন্যদিকে পেতার সুচিচের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
৮১ মিনিটে রোনাল্ডোকে তুলে রুবেন নেভেসকে মাঠে নামান কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারিতে থাকা পর্তুগিজ সমর্থকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন পান তিনি।
শেষদিকে একের পর এক আক্রমণে পর্তুগালের রক্ষণ কাঁপিয়ে তোলে ক্রোয়েশিয়া। মারিও পাসালিচের শক্তিশালী হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ইনজুরি সময়ের শেষমুহূর্তে যশকো গভার্দিওল বল জালে জড়ালেও ভিএআরে অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়। সেই সিদ্ধান্তে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে। এমনকি গোলটি বাতিল হওয়ার আগেই পর্তুগিজ ডাগআউট থেকে রেফারির কাছে ম্যাচ শেষ করার আবেদন জানানো হচ্ছিল।
এরপরই আসে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওর দুর্দান্ত পাস ধরে গনসালো রামোস ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন। সেই এক গোলেই শেষ হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে পর্তুগাল শিবির।
এখন শেষ ষোলোতে স্পেনের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় পর্তুগাল। আগামী সোমবার ডালাসে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি।
ম্যাচ শেষে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ও লুকা মড্রিচকে। দীর্ঘদিন ক্লাব ফুটবলে সতীর্থ থাকা এই দুই কিংবদন্তির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ দ্বৈরথ ছিল ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণ। পরাজয়ের পর মড্রিচের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ইতি ঘটার সম্ভাবনাও আরও জোরালো হয়েছে।