বিশ্বকাপ দলে রিয়াদকে নিয়ে এতো এতো হয়েছে নাটক, যেন রিয়াদকে দলে রাখাটা এক ধরনের করুনা। মাহমুদউল্লাহর সাথে অবিচার করতে গিয়ে তারা নিজেই খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে। বাংলায় একটা কথা আছে না, উপরওয়ালার মাইর দুনিয়ার মাইর, তারই যেন প্রতিফলন হয়েছে রিয়াদের সেঞ্চুরিতে। সাইলেন্ট কিলারের সাইলেন্ট উদযাপন ছিল মাহাত্ম্যপূর্ণ বার্তা।
কেউ কাউকে দাবায়ে রাখতে পারে না। টেনে নামায়ে দিতে পারে না। মানুষ যেটা পারে সেটা হল কেবল চেষ্টা করে যাওয়া, সাইলেন্টলি। মনে রেখো, খেলা তোমাদের কারো হাতেই না, ট্রাম্প কার্ড ওই যে উপরে যিনি তার কাছে। সম্মান-পজিশন সর্বশক্তিমান নির্ধারণ করলে, কারো ক্ষমতা নাই সেটা পাল্টানোর।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে যতোটা ক্রিকেটের ততোটা বলিউডেরও, উদযাপনে যে অদৃশ্য বার্তাটা দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সেটা সেই বলিউডের শহরে যেন শাহরুখ-সালমান-আমিরের সুপারহিট কোন শটের ক্রিকেটীয় সংস্করণ। যেই শটটা বছরের পর বছর টিকে থাকবে বাঙালির ক্রিকেট মনের থিয়েটারে।
টাইম মেশিন ধরে যদি পেছন যাওয়া যেতো, তাহলে বিশ্বাস করতে হয় তো কষ্ট হবে। হ্যাঁ, এই লোকটাই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার। ওকে নিয়ে এই লেভেলের টানা-হ্যাচড়া-অসম্মান-অপমান চলতে পারে? রিয়াদ নাকি আর চলে না- বিজ্ঞানী হাথুরু অবশ্য বরাবরই বাংলাদেশের পরীক্ষিত এই সৈনিকে অ্যালার্জি, তার কারণে অতীতে শেষ হয়ে গিয়েছিলো টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার।
জীবনে কখনো ছক্কা মারতে না পারা চিফ সিলেক্টর নান্নু কতো বিশ্রাম আর অজুহাতের গল্প ফেঁদেছেন তার কোন শেষ নেই। রিয়াদকে নিয়ে তার নানাবিধ কেচ্ছা কাহিনি দুই হাজার তেইশ জুড়েই চলেছে। শুধু সেই নান্নুকে দোষ দিয়ে কি লাভ, তিনি তো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন মাইনে পাওয়া মুখপাত্র মাত্র।
যে বোর্ডের অনেক মস্তিষ্ক তার সেরা রত্নগুলোকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার বোধ টুকু রাখেন, সেই লোকগুলো কি করে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে টেকসইভাবে পৌঁছে দিবে সম্মানজনক একটা জায়গায়? কাশি দিলে নাকি ঝেড়ে কাশতে হয়, এই ফ্যাক্টটাও সামনে আনা জরুরি সিনিয়র টিমমেট কলিগদের কাছ থেকে ঠিকঠাক ব্যাকিং পেয়েছেন কিনা?
বড় বড় দলে আছে নানান মেরূকরণ, থাকে। তবে দেশের জার্সি গায়ে চড়ানোর প্রশ্ন যেখান..গুরুত্বপূর্ণ টিম মেইটদের গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করানোয়...ব্যাক করাতে কখনো কার্পণ্য করেন না। মাশরাফির চলে যাবার পর সেই কালচারটা বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে যেন ফেরারি হয়ে হারিয়ে গেছে।
ফিটনেস, ফর্ম ইত্যাদি নানান উচ্চমার্গীয় অজুহাত বাংলাদেশে দেয়া গেছে। বিশ্বকাপ যতো এগিয়েছে ততোই সরব হয়েছেন সুনীল গাভাস্কার, ওয়াসিম আকরাম, শোয়েব মালিক, ওয়াসিম জাফররা। ওয়ার্ল্ড কাপ হিস্ট্রিতে ব্যাট হাতে তার সেরা পারফরমারকে ছাড়াই কি করে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছে?
কি করে বিগ ইভেন্টে প্রুভেন পারফরমারকে ড্রপ করা হতে পারে কোন ম্যাচে? কেন তাকে ওলট পালট পজিশনে খেলানো চলেছে? বাড়ির অভিজ্ঞ গুরুজনেরা যেমন বলেন, কাউকে অন্যায্য কারণে যতো নিচে নামানো হয়, ততো বেশি উঠে উপরে। রিয়াদের ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই... কেবল উপরেই উঠেছেন দ্য সাইলেন্ট কিলার।
ওয়াংখেড়েতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ উদযাপনে যে বার্তা দিতে চেয়েছেন সেটার রেশ হয়তো ক্রিকেট ছাড়িয়ে ঘাটি গাড়বে, তৈরি করবে বহু অদম্য বাঙালি। রোজকার জীবনে টেনে নিচে নামানো-অপমানের যে টু বিন কন্টিনিউড চ্যালেঞ্জ, তাতে রিয়াদ যেন বার্তা দিলেন। চুপচাপ দেখে যাও, মনে রাখো, আর তোমার কাজটা করে যাও। সর্বশক্তিমান চাইলে, সময় এলে, ওয়াংখেড়ের রিয়াদ হবে তুমিও!