দক্ষিণ আফ্রিকান বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যেনতেন হারের মধ্যেই সেঞ্চুরি করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বুঝিয়ে দেন, সবাই ঠিক মতো খেলতে পারলে, ম্যাচটি টাইগারদের হলেও হতে পারতো। পরের দিন রিয়াদ যখন মুম্বাইয়ের তাজ হোটেল থেকে বের হচ্ছিলেন তখন তিনিই সবার আগ্রহের কেন্দ্রে। তিনি হোটেল থেকে বেরোনোর পর জমে যায় জটলার মতন। কয়েকজন ভক্ত তাকে অভিনন্দন জানালে ছোট জবাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে হাসি মুখে উঠে যান বাসে।
বিশ্বাসী, আশাবাদী, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মানুষ ব্যর্থ হয় না। হতাশা তো আসে ব্যর্থতার গ্লানি থেকেই, যে মানুষটাকে পুরো বাংলাদেশ ভালোবাসে, যে মানুষটা দেশের জন্য প্রাণ পণে লড়ে, কারো আগে পিছে নেই তারও শত্রুর অভাব নেই। সাইলেন্ট কিলার নীরবেই থাকেন নিরবেই সব কিছুর উত্তর দেন।
আহত বাঘ যে কতোটা ভংকর হতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১১১ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস। সেঞ্চুরি করেই আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেনো খুঁজছিলেন। হয়তো এক আঙুল উঁচিয়ে আল্লাহকে বলেছিলেন এটি আমার কাজ নয়, সব তোমার অবদান। ওপরে একজন আছেন, তিনিই সবকিছু ফয়সালা করেন! সেঞ্চুরি পরেই সবুজ মাঠে সেজদায় করেন।
রিয়াদের সেঞ্চুরি উদযাপন নিয়ে অনেকেই অনেক কিছু ভাবছে। অবশেষে স্ত্রী জান্নাতুল কেফায়েত মিস্টি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন ‘সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ, মাঝে মাঝে আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করেন তার আরও কাছে যাওয়ার জন্য। একজন মুমিন যদি আল্লাহর পরিকল্পনার ওপর সবর ও আস্থা রাখতে পারে তবে সে সেরা পুরস্কার পায়। মাশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।’
দল থেকে বাদ পড়ার সময়টা রিয়াদ কি করেছিলেন, সেটাও জানিয়েছেন রিয়াদের সহধর্মিণী। তিনি জানান, রিয়াদ- একাকী পরিশ্রম করে গেছেন, অটুট বিশ্বাস রেখেছিলেন আল্লাহর ওপর। বলেন, আমার স্বামী এমন একজন বিশ্বাসী। গত কয়েক মাস তিনি কেবল আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন, তিনি মসজিদেই সবচেয়ে শান্তি খুঁজে পেয়েছেন এবং আল্লাহর কাছে যা চেয়েছিলেন তা দিয়েছেন... আলহামদুলিল্লাহ। ভেঙে পড়ো না, নিরাশ হয়ো না, সততা থাকলে সাহায্য আসবেই এটা আল্লাহর ওয়াদা!
সাকিবকে ছাড়াই কলকাতায় পা রাখলো বাংলাদেশ
কোচ হাথুরুর সঙ্গে মতবিরোধেই কী দলছুট সাকিব?