করমর্দন নিয়ে রহস্য বজায় রাখলেন সূর্যকুমার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে আগামীকাল রবিবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। তবে কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়রা কি একে অপরের সাথে করমর্দন করবেন? গত এক বছরের তিক্ত কূটনৈতিক ও ক্রীড়া সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের রহস্যময় মন্তব্য এই কৌতুহলকে আরও উসকে দিয়েছে।

শনিবার প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে সংবাদিকদের বারবার করা প্রশ্নের জবাবে সূর্যকুমার সরাসরি কোন উত্তর দেননি। তিনি বেশ রসিকতার ছলেই বলেন, আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। ভালো করে খাওয়া-দাওয়া করুন, শান্তিতে ঘুমান, কালই সব দেখতে পাবেন।

টসের সময় বা ম্যাচ শেষে সৌজন্য বিনিময় হবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি যোগ করেন, আসুন কালই সাসপেন্সটা ভাঙা যাক। আমার কাছে ম্যাচের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি।


২০২৫ সালের এশিয়া কাপে পাহলগাম হামলা এবং ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর ভারত তিনবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হলেও কোনো ম্যাচেই হাত মেলায়নি। সে সময় সূর্যই ছিলেন করমর্দন না করার প্রধান নেতৃত্বে।

ভারতীয় শিবিরের জন্য স্বস্তির খবর হলো, তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা পাকিস্তান ম্যাচে ফিরছেন। সূর্যকুমার নিশ্চিত করেছেন যে, শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে অভিষেক একাদশে ফিরতে প্রস্তুত। এছাড়া বাঁহাতি স্পিনার কুলদীপ যাদবকেও খেলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন অধিনায়ক।

হাস্যোজ্জ্বল মুখে তিনি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আপনি কি তাকে (কুলদীপ) খেলানোর পক্ষে? ঠিক আছে, তবে সে খেলবে। কলম্বোর মন্থর উইকেটে কুলদীপের উপস্থিতি পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

পাকিস্তানের রহস্যময় স্পিনার উসমান তারিকের ‘স্টপ-স্টার্ট’ অ্যাকশন নিয়ে সূর্যকুমার বলেন, পরীক্ষায় সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন আসলেও যেমন ছেড়ে দেয়া যায় না, তারিকের ক্ষেত্রেও আমাদের একই মনোভাব। সে ভিন্ন ঘরানার বোলার হতে পারে, তবে আমরা তার সামনে আত্মসমর্পণ করব না।

পাশাপাশি নামিবিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভারতের মিডল-অর্ডারের নড়বড়ে ব্যাটিং নিয়ে কোনো অজুহাত দেননি সূর্য। তিনি স্বীকার করেন, তাদের শুরুটা কিছুটা ‘স্ক্র্যাচি’ বা অগোছালো ছিল, তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়াটাই আসল সৌন্দর্য।

ভারত-পাক ম্যাচের বাড়তি চাপ প্রসঙ্গে সূর্যকুমার যাদব বলেন, আমরা যতই বলি এটি আর দশটা সাধারণ ম্যাচের মতো, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি অনুযায়ী এটি মোটেও সাধারণ নয়। আমরা প্রায়ই একে অপরের মুখোমুখি হই না, তাই চাপ সব সময়ই থাকে।


তবে পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এটি আমার হাতে নেই। যখন আমি এমন অবস্থানে পৌঁছাব, তখন আপনাদের জানাব।

এর আগে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগা জানিয়েছিলেন যে, তারা ক্রিকেটের চিরাচরিত চেতনা বজায় রাখতে আগ্রহী, তবে করমর্দন হবে কি না তা ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। পাকিস্তানের বয়কট হুমকি কাটিয়ে এই ম্যাচটি মাঠে গড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে আইসিসি।