বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইসিসি’র সাথে পরামর্শ করবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একইসঙ্গে, চলতি বছরে ভারত-শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার কারণ খতিয়ে দেখতে, দ্বিতীয় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের পরিকল্পনাও করছেন তিনি। খবর ইএসপিএন ক্রিকইনফো।
এর আগে গত ১১ মার্চ গত বছরের বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এর জবাবে গত সোমবার বিসিবি জানায়, এই কমিটি গঠন করা বিসিবি’র ওপর বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।
বাংলাদেশের সাবেক ফুটবল অধিনায়ক আমিনুল হক মঙ্গলবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান শেষে জানান, পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি আইসিসি’র সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।
তিনি বলেন, গত বছর বিসিবি নির্বাচনে পূর্ববর্তী সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের বিষয়ে আমরা সবাই অবগত। আমি অনেকবার এ নিয়ে কথা বলেছি। ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব ও জেলাগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমি তাদের রিপোর্ট পড়ব, তবে আইসিসি’র সাথে আলোচনার পরেই আমার পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত হবে।
বিসিবি নির্বাচনের সময় তামিম ইকবাল এবং ঢাকার ক্লাব কর্মকর্তাদের বড় অংশ নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলেছিলেন। এমনকি নির্বাচনের আগেই বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে পাঠানো একটি স্বাক্ষরিত চিঠিতে আমিনুল ইসলাম ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে নির্দিষ্ট কিছু জেলার কাউন্সিলর পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তামিম আরও অভিযোগ করেছিলেন, বিসিবি দু’বার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছিল।
পরবর্তীতে ১ অক্টোবর তামিম ইকবাল বিসিবি নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন এবং ৫ অক্টোবর (নির্বাচনের আগের দিন) আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ক্রীড়া মন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসকরা কীভাবে তাদের মনোনয়ন পরিবর্তন করেছিলেন, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখবেন। আমিনুল হক বলেন, তদন্ত কমিটি বিসিবি’র নির্বাচন কমিশনার, বর্তমান বোর্ড সভাপতি, পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলবে।
পাশাপাশি যেসব জেলা প্রশাসক বিসিবি কাউন্সিলরদের মনোনয়ন দিয়েছিলেন, তাদের সাথেও যোগাযোগ করা হবে। অভিযোগ রয়েছে, চিঠি পাওয়ার পর অনেক জেলা প্রশাসক আগে মনোনীত কাউন্সিলরের পরিবর্তে নতুন নাম পাঠিয়েছিলেন। আমি মনে করি এসব বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তিন সপ্তাহের দীর্ঘ আলোচনার পর বিসিবি ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা কেন বিশ্বকাপে গেলাম না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। আমাদের বুঝতে হবে কেন আমাদের ক্রীড়া কূটনীতি ব্যর্থ হলো। ঈদের পর এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আমাদের ক্রীড়া কূটনীতি আরও শক্তিশালী করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়।